উত্তরা ফাইন্যান্সের সাবেক এমডির পালানো ঠেকাতে চি‌ঠি

উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের অপসারিত এমডি এস এম শামসুল আরেফিন।
উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের অপসারিত এমডি এস এম শামসুল আরেফিন।ছবি : সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম শামসুল আরেফিন যেন বিদেশে পালাতে না পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চি‌ঠি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার উত্তরা ফাইন্যান্সের চল‌তি দা‌য়িত্বে থাকা এম‌ডি মুন রানী দাস সই করা দুদকে পাঠানো চিঠির একটি কপি বাংলাদেশ ব্যাংকেও পাঠানো হয়েছে।

উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের অপসারিত এমডি এস এম শামসুল আরেফিন।
মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বললেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

উত্তরা ফাইন্যান্সের চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির অপসারিত সাবেক দুর্নীতিগ্রস্ত এমডি এস এম শামসুল আরেফিন যেন কোনোভাবেই দেশ ত্যাগ না করতে পারেন সেজন্য তার পাসপোর্ট জব্দসহ বিদেশ পালানোর সুযোগ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ প্রতিষ্ঠানটির এমডি এস এম শামসুল আরেফিনকে অপসারণ করে।

দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী রহমান হকের বিশেষ নিরীক্ষায় শামসুল আরেফিনের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, উত্তরা ফাইন্যান্স বিশেষ পরিদর্শনে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বড় ধরনের কেলেঙ্কারির প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক পরিচালক ও এমডি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়েই নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়েছেন। এ ছাড়া, শামসুল আরেফিনের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটি তাদের অনেক লেনদেনের তথ্য গোপন করতে নথিপত্রও গায়েব করে ফেলে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শামসুল আরেফিনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান। এরই ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি খাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্সের দায়িত্বে এস এম শামসুল আরেফিন আসার পর প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। অনুমোদন ছাড়াই ঋণ নিয়েছে পরিচালকরা। নামে-বেনামে করেছে অর্থ আত্মসাৎ। ঋণ-আমানতের তথ্যে রয়েছে গড়মিল। বারবার সতর্ক করার পরও টনক নড়েনি। নানা অজুহাত দেখিয়ে আর্থিক প্রতিবেদন দিতে কালক্ষেপণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের অপসারিত এমডি এস এম শামসুল আরেফিন।
গোপনে মিথুন নিটিং বিক্রি, খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি

এরপর বাধ্য হয়ে অনিয়ম খুঁজে বের করতে উত্তরা ফাইন্যান্সে নিরীক্ষক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া, ২০১৮ সালে তিন গ্রাহকের ঋণের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) ভুল তথ্য পাঠিয়েছিল উত্তরা ফাইন্যান্স। পরে ওই তিন গ্রাহককে ঋণ দিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ভুল তথ্য দেওয়ার অপরাধে উত্তরা ফাইন্যান্সকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে জরিমানা মওকুফ চেয়ে আবেদন করলেও তা নাকচ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, উত্তরা ফাইন্যান্স বিশেষ পরিদর্শনে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বড় ধরনের কেলেঙ্কারির প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক পরিচালক ও এমডি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন না নিয়েই নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়েছেন। এ ছাড়া, শামসুল আরেফিনের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটি তাদের অনেক লেনদেনের তথ্য গোপন করতে নথিপত্রও গায়েব করে ফেলেন।

এসব অনিয়মের কারণে উত্তরা ফাইন্যান্সের ২০১৯-২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদন সংশোধনের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন পর্যন্ত সেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। যার কারণে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা ২০১৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com