অভিষেকের দিনই হতাশ করল গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড

আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচ্যুয়াল ফান্ড।
আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

আগের দিন (বুধবার) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেনের ঝাঁকজমক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে বলেছিলেন, ‘আমরা ঘণ্টা বাজিয়ে বুঝিয়ে দিলাম, মিউচুয়াল ফান্ডে এখনই বিনিয়োগের সময়। মিউচুয়াল ফান্ডগুলো এখন ভালো লভ্যাংশ দিচ্ছে। এখন শুধু দরকার মানুষের আস্থা। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’

মিউচুয়াল ফান্ডের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যানের আশার বাণী শোনানোর পরের দিনই খাতটির বিনিয়োগকারীরা ফের হোঁচট খেলো। আজ অভিষেকের দিন মহা ধুমধাম করে শেয়ারবাজারে লেনদেনে আসা আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচ্যুয়াল ফান্ডটির ইউনিট অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে গেছে। প্রথম দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ফান্ডটির ইউনিট লেনদেন হয়েছে অভিহিত মূল্য বা ফেস ভ্যালুর নিচে-৯ টাকা ৬০ পয়সায়। তবে লেনদেন শেষ হয়েছে ফেস ভ্যালুর ওপরের দরেই।

অপর শেয়ারবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দিনভর ফেস ভ্যালুর ওপরেই ফান্ডটির ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর প্রথম দিন যে কোনো সিকিউরিটিজের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস থাকে না। অভিষেকের দিন ১০ শতাংশ বা ১ টাকার মতো দর কমা বা বাড়ার সুযোগ থাকে। তবে প্রথম দিনের ক্লোজিং প্রাইস পরের দিন থেকে ফ্লোর প্রাইস হিসেবে গণ্য করা হয়।

ফলে দিনের বিভিন্ন সময় সর্বোচ্চ পরিমাণ দর বেড়ে লেনদেন হয়েছে। ১০ টাকা ফেস ভ্যালুর বিপরীতে সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১ টাকা।

আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচ্যুয়াল ফান্ড।
উত্তরা ফাইন্যান্সের সাবেক এমডির পালানো ঠেকাতে চি‌ঠি

আজ প্রথম দিন ফান্ডটির ইউনিট সর্বোচ্চ দরে অর্থাৎ ১১ টাকায় লেনদেন হয়েছে। তবে দিনের এক সময় ৪০ শতাংশ দাম করে ৯ টাকা ৬০ পয়সাতে লেনদেন হয় প্রতি ইউনিট। শেষ লেনদেন হয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সায়, যা ইউনিটটির ক্লোজিং প্রাইস হিসাবে স্থির হয়।

আজ ডিএসই ও সিএসই মিলে প্রথম দিনে ফান্ডটির লেনদেন হয়েছে ৯৮ লাখ ৯১ হাজার ১২৫ টাকা। এর মধ্যে ডিএসইতে ৯৮ লাখ ৩৬ হাজার ও সিএসইতে ৫৫ হাজার ১২৫ টাকা লেনদেন হয়।

লেনদেন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ডিএসইতে ফান্ডটির ৯ লাখ ৭৫ হাজার ২৭১টি ইউনিট লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ২৫০টি ইউনিট।

লেনদেনের শুরু থেকেই সিএসইতে একই দরে অর্থাৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সায় প্রতিটি ইউনিট লেনদেন হয়েছে। ফলে সিএসইতে ফান্ডটির ক্লোজিং প্রাইস হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সায়।

এদিকে আজ আরও একটি মিউচুয়াল ফান্ড ফ্লোর প্রাইসে ফিরে এসেছে। এই নিয়ে ফ্লোর প্রাইসে মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৪টিতে।

অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট অভিহিম মূল্যের ওপরে লেনদেন হচ্ছে। বাকি ৩৩টির ইউনিট লেনদেন হচ্ছে অভিহিত মূল্যের নিচে।

আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচ্যুয়াল ফান্ড।
গোপনে মিথুন নিটিং বিক্রি, খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) এবং আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের জন্য এই মিউচ্যুয়াল ফান্ডটি চালু করেছে। শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এই গোল্ডেন জুবিলি মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে আসা হয়।

ফান্ডটির উদ্যোক্তা হলো সিএমএসএফ এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে আছে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইসিবি এএমসিএল)।

ফান্ডটির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১০০ কোটি টাকা। এর উদ্যোক্তা হিসেবে সিএমএসএফ ৫০ কোটি টাকা এবং আইসিবি এএমসিএল ২০ কোটি টাকা দিয়েছে।

ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের পাঁচ কোটি টাকা দেয়। বাকি ২৫ কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়, যা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে। ফান্ডটির ইউনিট প্রতি অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

গত ৩১ মার্চ সিএমএসএফ ফান্ডের ট্রাস্ট ডিড এবং বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা চুক্তির বিষয়ে বিএসইসি অনুমোদন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল একটি ট্রাস্ট ডিড সই হয়।

এ ছাড়া ফান্ডটির কাস্টোডিয়ান হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড এবং ট্রাস্টি হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com