‘৭৫ টাকা দিয়ে শুরু, পরে আর থামতে হয়নি’

আনোয়ার হোসেন।
আনোয়ার হোসেন।ছবি: সংগৃহীত

‘পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। যদি আমার কাছে এক টাকাও না থাকে তখনও আমি নতুন কিছু করে যাব। আমি কখনও থেমে থাকবো না এটাই ছিল আমার মূলমন্ত্র।’

আনোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান আনোয়ার গ্রুপ

বিশ্বাস করতেন জীবনে অসম্ভব বলে কিছু নেই। তাইতো শূন্য হাতে যাত্রা শুরু করে সাফল্যের চূড়ায় উঠেছেন দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র সাত বছর বয়সে আমার বাবাকে হারাই। বাবা আমাকে সর্বদা শেখাতেন যে পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। তার দেখানো সেই পথেই এগিয়ে যাই আমি। বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই যোগ দিলেন সেনাবাহিনীতে এবং মেজো ভাই ছোট ব্যবসা শুরু করলেন। সেসময় আমার পড়াশুনায়ও ব্যঘাত ঘটে। তাই এক দোকানে কাজের ব্যবস্থা করে দেন বড় ভাই। সেই বেতন থেকে জমানো মাত্র ৭৫ টাকা দিয়েই ব্যবসা শুরু করেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘শুরুতে সম্পর্কের জেরেই বাকিতে জিনিস নিয়ে তা বিক্রি শুরু করলাম আমি। তারপর একদিন পাকিস্তানি এক কাপড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচয় হলো আমার। তবে তার ব্যবসা মন্দ যাচ্ছিল, তখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আমি তার সব কাপড় বিক্রি করিয়ে দেই। এতে প্রথম আমি ২৮ হাজার টাকা লাভ করতে পারি।’

সেই টাকা দিয়ে নিজের একটা দোকান দিলেন তিনি। এতে এলাকাতেও তার খুব নামডাক পড়ে গেল। এরপর কলকাতা ও করাচী থেকে ঘুরে এসে নিজের ব্যবসার প্রসার ঘটালেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিজের জিনিসপত্র আনা নেওয়ার জন্য আমি কখনও কুলি নিতাম না। কারণ কুলি নিলে অন্যদের চোখে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এছাড়া কুলি মাল নামিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই কুলিকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে পারে, এতে ব্যবসার গোমর ফাঁস হতে পারে। তাই নিজের মাল আমি নিজের কাঁধেই বহন করতাম।’

তিনি বলেন, পরে এক আত্মীয়ের সহায়তায় আনোয়ার সিল্ক মিলস লি. নামের মালা শাড়ির কারখানা চালু করেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল কর্পোরেশন, হোসেন ডাইং, সিমেন্ট শিট, সিমেন্ট ও আনোয়ার স্টিলসহ ১১টি কারাখানা রয়েছে তার। শুরুতে দেশের চাহিদা মেটাতে কোনো পণ্য বিদেশে রপ্তানি না করলেও বর্তমানে বিদেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন তিনি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com