ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙ্গে যেভাবে সফল এ কে আজাদ

এ কে আজাদ
এ কে আজাদছবি: সংগৃহীত

‘স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চলার পথে অনেক হোঁচট খেয়েছি তবে থেমে যাইনি। আপনি কোথায় যেতে চান সেই লক্ষ্য স্থির করতে হবে। সমস্যা আসবে কিন্তু হতাশ হওয়া যাবে না।’

এ কে আজাদ

জীবনে সমস্যা আসবে কিন্তু হতাশ না হয়ে সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ।

তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম ১৯৫৯ সালে। আমি ছিলাম মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমরা গ্রামের সাধারণ একটা টিনের ঘরে পড়াশুনা করেছি। ১৯৭০ সালে আমি পঞ্চম শ্রেণিতে যখন স্কলারশিপ পাই তখন আমার পরিবার আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতো। আমাকে অনেক বড় কিছু হতে হবে তারা তা আমার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে চলার পথে অনেক হোঁচট খেয়েছি তবে থেমে যাইনি। আমি ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। তবে রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে আমার পড়াশুনায় দুই বছরের একটি দূরত্ব তৈরি হয়।’

১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন পূবালী ব্যাংকের একজন ম্যানেজার তাকে পরামর্শ দিলেন চাকরির উপর নির্ভরশীল না হয়ে ছাত্র অবস্থায় কিছু একটা করতে। তার পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেন এ কে আজাদ।

ব্যবসার শুরুর ‍দিকের প্রতিকূল মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তখন আমাদের তেমন টাকা পয়সা ছিল না। ১৯৮৪ সালে আমরা রেডি মেড গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে কাজ শুরু করি। এটি শুরুর পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ, পার্টনারশিপ সবকিছু মিলিয়ে ১৯৮৫ সালের দিকে আমরা একটি কারখানা শুরু করলাম। চালুর তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে পণ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করে আমেরিকা। তখন পুরাতন গার্মেন্টস মালিকদের ষড়যন্ত্রের কারণে আমাদের ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সে সময় ব্যাংক ঋণ ও বাড়ি ভাড়ার টাকা জোগাড় নিয়ে খুব অসহায় অনুভব করলাম। একদিন শুনলাম যে শিশু একাডেমিতে নতুন গার্মেন্টস উদ্যোক্তারা মিটিং ডেকেছে। পরে সেখানে যুক্ত হয়ে তৎকালীন নতুন গার্মেন্টস সমিতির জন্য আমরা নতুন একটি প্যানেল গঠন করলাম এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসলাম। এরপর জাতিসংঘের ইউএনডিপির অর্থায়নে পূর্ব বার্লিন ও রাশিয়ায় যাই সেখানের মার্কেট গবেষণা করতে।’

এ কে আজাদ জানান, সেখান থেকে দেশে ফেরার পরই গার্মেন্টস সেক্টরে সবার দৃষ্টিতে আসেন তিনি। এসময় বিদেশি ক্রেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এবং পুরোনো গার্মেন্টস মালিকরাও সাহায্যের জন্যে এগিয়ে আসে। এতে কারওয়ানবাজারে ২১টি মেশিন নিয়ে নতুন করে আবার কারখানা দিলেন তিনি। তখনও নতুন করে ব্যাংক ঋণ এবং শ্রমিকদের অর্থ জোগাড় করতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়েছে তাকে। তবে হতাশ হয়ে থেমে যাননি, বরং এগিয়ে চলেছেন লক্ষ্যের দিকে। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

তিনি বলেন, ‘আজকে হামীম গ্রুপ দেশের প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানি। বর্তমানে ৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছি। গত বছর সর্বোচ্চ ট্যাক্স দিয়েছে হামীম গ্রুপ। আমরা নতুন ওভেন টেক্সটাইল করছি যা এতদিন বিদেশ থেকে ওভেন ফেব্রিক্স আনতে হতো। তা এখন আমরাই বানাবো। বাংলাদেশের টেক্সটাইলে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে একটা বিপ্লব ঘটিয়ে দিচ্ছি। তবে এতকিছু একবারে সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সফলতার মূলমন্ত্র হলো ভালো নেতৃত্ব দিতে জানতে হবে। আপনার মধ্যে ত্যাগের মন মানসিকতা থাকতে হবে। এছাড়া আপনি কোথায় যেতে চান সেই লক্ষ্য স্থীর করতে হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে। কর্মক্ষেত্রে পার্টনার কিংবা ডিলারদের মাঝে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। সমস্যা আসবে কিন্তু হতাশ হবেন না। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com