‘স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধ হলে ডলার সংকট অনেকাংশে কমে যাবে’

বিএফআইইউ ও বাজুসের যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বাজুসের প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর।
বিএফআইইউ ও বাজুসের যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বাজুসের প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর। ছবি : সংগৃহীত

বছরে ৭৩ হাজার কোটি টাকার অবৈধ স্বর্ণের অলংকার ও বার চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এসব চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করতে পারলে বর্তমানে ডলারের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা অনেকাংশে কমে যাবে। চোরাকারবারিদের চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাজুসের সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং সেল গঠন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও বাজুসের একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএফআইইউর প্রধান কর্মকর্তা মো. মাসুদ বিশ্বাস সভায় সভাপতিত্ব করেন। বাজুসের প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সভায় বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাজুস প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীর বলেছেন, অর্থপাচার ও ডলার সংকটের নেপথ্যে রয়েছে স্বর্ণ চোরাচালান। অনেকে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আইন থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ নেই। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে সোনা চোরাকারবারিরা খালাস পাচ্ছেন।

সায়েম সোবহান আনভীর আরও বলেন, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে জামিন অযোগ্য মামলা দিতে হবে। এ সময় জুয়েলারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হতে পারে সে লক্ষ্যে সব জুয়েলারি ব্যবসায়ী সম্মিলিতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন।

সভায় বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তাই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বাজুস ও বিএফআইইউর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও সুদৃঢ়করণ এবং স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান।

বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলীপ আগরওয়াল বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি বর্তমানে রিজার্ভ ও ডলারের যে সংকট রয়েছে, স্বর্ণের বার আমদানি যদি বন্ধ হয় তাহলে আমাদের দেশে মানি লন্ডারিং অনেকাংশে কমে যাবে। তিনি বলেন, দেশ থেকে কী পরিমাণ স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে তা আমরা বলতে পারব না। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই বিষয়ে বলতে পারবে। বাজুসের নতুন কমিটি জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশনকে একটা ডিজিটাল ফ্ল্যাটফর্মের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। বিএফআইইউ যে ধরনের তথ্য চাইবে আমরা সব ধরনের তথ্য তাদের দিব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের কোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যদি এই ধরনের চোরাচালানে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। তবে আজ পর্যন্ত কোনো সংস্থা এই ধরনের প্রমাণ পায়নি।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের বড় শিল্প হচ্ছে। বসুন্ধরা স্বর্ণ রিফাইনারি হচ্ছে। প্রায় এক কোটি মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাই দেশীয় এই শিল্পের বিকাশে কোনোভাবেই যেন স্বর্ণের বার আমদানি না হয় সেদিকে নজর রাখতে সভায় বাজুসের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুয়েলারি শিল্পে স্বর্ণ চোরাচালান বড় ধরনের সংকট ও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোরাচালান শুধু দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে না। চোরাচালানের ফলে অর্থনৈতিক সংকট বাড়ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার করে সারা দেশের জল, স্থল ও আকাশ পথে প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সোনার অলংকার ও বার চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে, যা বছরে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এই অবস্থায় এসব স্বর্ণ চোরাচালান কারবারিদের ধরাসহ সমিতির অধীনে থাকা ৪০ হাজার সদস্যকে সচেতন করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com