‘বৈশ্বিক অর্থনীতির বাস্তবতা মোকাবিলা করাই আগামী অর্থবছরের বড় চ্যালেঞ্জ’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বাস্তবতা মোকাবিলা করাই আগামী অর্থবছরের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে অনেক উন্নতি করেছে। তবে বিষয় হলো এই উন্নয়নকে টেকসই ও স্থিতিশীল করা। বাংলাদেশকে রাজনীতিক স্থিতিশীল অবস্থায় দেখতে চাইলে আগামী বছর সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। চলতি খাতে ঘাটতি যদি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে এবং টাকার সাথে সরকারি ব্যয় বাড়ে তবে তা বাধ ভেঙ্গে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যায়।

সিপিডির এই ফেলো বলেন, গত ১০ বছরে এই সরকারের সবচেয়ে বড় অবদান হলো সমষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা। এই স্থিতিশীলতা আগামী অর্থবছরে না থাকলে টাকার মূল্যমান বা মূল্যস্ফিতি কিছুই থাকবে না। বাজেট নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটার কৌশল আগে নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে আমরা বলছি যে রিজার্ভ কমে যাচ্ছে কিন্তু এর জন্য কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এছাড়া পুরো জিনিসটা একটি প্রতিক্রিয়া নীতিতে থাকলেও উদ্যোগ নেওয়ার নীতি নেই।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কৃষিমন্ত্রী ও অন্যান্যরা বলে বড় বাজেটের কথা। কিন্তু গতবছর এত বড় বাজেট দেওয়া স্বত্ত্বেও জিডিপির অনুপাতে সরকারি ব্যয় ১৩ শতাংশের বেশি উঠতে পারেনি। এছাড়া বড় বাজেট দেওয়ার পরও বর্তমানে ট্যাক্স জিডিপির হার ৯.৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১০ শতাংশের নিচেই পড়ে আছে। বাজেটে কি ঘোষণা হয়েছে সেটা মুখ্য বিষয় না। বরং বাজেট কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে সেটাই মূল বিষয়।

ড. দেবব্রত ভট্টাচার্য বলেন, ‘গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয় হলো আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির পরিস্থিতি। সামষ্টিক অর্থনীতির এই ভঙ্গুরতা প্রকাশ পায় আমাদের মূল্যস্ফিতির মধ্য দিয়ে, টাকার বিনিময় হারের ভিতর দিয়ে এবং খুব দ্রুত যেটা আসবে তা হলো সুদের হার বৃদ্ধি। যেই বড় ধরনের ঘাটতি বা অর্থনৈতিক সংহতি দরকার সেটার কারণে রাজস্ব বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ প্রভুত পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com