সরবরাহ ঠিক রাখতে নীতি সহায়তা চান ব্যবসায়ীরা

সরবরাহ ঠিক রাখতে নীতি সহায়তা চান ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে মসলা পণ্যের দাম বেড়েছে বেশি। এর অন্যতম কারণ সরবরাহে ঘাটতি। এ ঘাটতি দূর করা না গেলে আসন্ন রমজানেও পণ্যমূল্য কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে থাকবে না।

গতকাল সোমবার জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে মসলা পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা এমন মতামত জানিয়েছেন। এ সময় রমজান মাসে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে নীতি সহায়তা চেয়েছেন তারা। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আমদানি প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে হবে। পাশাপাশি এলসি খোলায় মার্জিন দিতে হবে। ভোক্তা অধিদপ্তরও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে।

সভায় আদা, রসুন, হলুদ, শুকনা মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের মসলার পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। সভায় ঢাকার শ্যামবাজার ব্যবসায়ী সমিতিসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা এবং চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

সভার শুরুতে আদা ও রসুনের বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে টিসিবির তথ্যের ভিত্তিতে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ডলার ও আন্তর্জাতিক বাজার হিসাব করলে দাম বাড়ার কথা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবে দাম বেড়েছে অনেক বেশি। সেজন্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা না গেলে রমজানে মূল্য কাঙ্ক্ষিত সীমায় থাকবে না। তিনি বলেন, দেশি রসুনের গত বছরের এ সময়ে প্রতি কেজির দাম ছিল ৪০ থেকে ৭০ টাকা, এখন প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। একইভাবে গত বছরের এ সময়ে প্রতি কেজি দেশি আদার দাম ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা, সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। আমদানি আদার দাম ছিল ৬০ থেকে ১২০ টাকা, সেটি এখন ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, বৈশ্বিক মন্দা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব এবং দেশে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) জটিলতার বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে সমস্যা আছে, সেগুলো শিগগিরই দূর হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শ্যামবাজার কৃষিপণ্য আড়ত বণিক সমিতির সহসভাপতি হাজি মো. মাজেদ বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদনের যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে রোজায় কোনো সমস্যা হবে না। এ ছাড়া আদা ও রসুনের এলসি করতে পারলে রমজানে কোনো সমস্যা হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে চায়না থেকে আদা, রসুন আমদানিতে কমপক্ষে ২০ শতাংশ মার্জিন দিতে হবে। তাহলে রমজান মাসে কোনো সমস্যা হবে না। পাশাপাশি সামনে রসুনের মৌসুম। ভারত ও মিয়ানমার এবং দেশের রসুন বাজারে চলে আসবে। যেজন্য সমস্যা হবে না। আর আদার দাম চায়নাতেও বেশি, সেক্ষেত্রে আমাদের একটু সুবিধা দিলে আমদানি সহজ হবে। বাজারও কোনো চাপে থাকবে না।

আমদানিকারকরা জানান, আদা ও রসুন ব্যবসায়ীরা শতভাগ মার্জিন দিয়ে এলসি খোলার অবস্থায় নেই। কাঁচা পণ্যের বাজার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আমদানি বেশি হলে ব্যবসায়ীরা কমদামে, এমনকি লোকসানেও মাল বিক্রি করতে হয়। আর যদি চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকে, সেক্ষেত্রে অস্থিরতা দেখা দেয়। এখন বাজারে ঘাটতি আছে, এর সমাধানে সুবিধা দিয়ে হলেও যাদের ব্যবসায় সুনাম আছে, তাদের এলসি দ্রুত করার সুযোগ দিতে হবে। আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করলে রোজা নয়, সারা বছর বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকবে।

চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. ইদ্রিস ঢাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, মসলা ব্যবসায়ীদের পুঁজি কম। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেরা সব বিনিয়োগ করে পণ্য আনতে পারে না। বাজারে ডলারের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ভালো নেই। যেজন্য সরকার সুযোগ দিলে, এলসি সুবিধা দিলে যথা সময়ে মালপত্র এলে, রমজানে কোনো সমস্যা হবে না।

সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, রমজান সামনে রেখে সরকার সবসময় সুবিধা দিয়ে থাকে। এর পরও দেখা যায়, রমজানে বাজার অস্থির থাকে। এজন্য অস্থিরতার কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে এফবিসিসিআইর সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপপ্রধান মাহমুদুল হাসান, চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. ইদ্রিস, শ্যামবাজার কৃষিপণ্য আড়ত বণিক সমিতির সহসভাপতি হাজি মো. মাজেদ, কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি হাজি আব্দুল মতিন, (অনলাইনে) চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. ইদ্রিস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com