সিঙ্গাপুরে বহুতল ‘কার পার্ক’ যেভাবে পরিণত হচ্ছে খামারে

নিজের খামারে আইলিন গোহ
নিজের খামারে আইলিন গোহ

সিঙ্গাপুর একটি ছোট ও ব্যাপকভাবে নগরায়িত দ্বীপরাষ্ট্র। সিঙ্গাপুরের স্থলভূমির মোট আয়তন মাত্র ৬৯৯ বর্গকিলোমিটার। সেই হিসাবে আবাদি জমিও কম দেশটিতে। আবাদি জমি বেশি না থাকায় বিকল্প উপায়ে চাষাবাদ হচ্ছে সিঙ্গাপুরে। রুফটপ ফার্মিং জনপ্রিয় হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট এই দেশটিতে। এক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হচ্ছে কার পার্ক।

আইলিন গোহ সিঙ্গাপুরের একটি কার পার্কের ওপরের ডেকে খামার করেছেন। এটি আইলিনের ছোট কোনো কার্যক্রম নয়। এই নারী জানান, এখান থেকে তিনি আশপাশের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে দৈনিক ৪০০ কেজি পর্যন্ত সবজি সরবরাহ করেন।

আইলিন বলেন, সিঙ্গাপুর বেশ ছোট কিন্তু আমাদের অনেক কার পার্ক আছে। কমিউনিটির বাসিন্দাদের চাহিদা মেটানোর স্বপ্ন থেকেই এখানে খামার করা। তিনি জানান, বর্তমানে অন্তত ডজনখানেক রুফটপ খামার গড়ে উঠেছে।

আমরা প্রতিদিন ফসল তুলছি। এটি নির্ভর করে আমরা কোন ধরনের সবজি উৎপাদন করছি তার ওপর। প্রতিদিন ১০০ কেজি থেকে ২০০ কেজি, এমনকি তা ৪০০ কেজি পর্যন্তও হতে পারে।
আইলিন গোহ, সিঙ্গাপুরের রুফটপ খামারি

স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২০ সালে আনইউজুয়াল প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া শুরু করে সিঙ্গাপুর সরকার। ৫.৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটি বর্তমানে তার খাদ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে।

কিন্তু এই ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপরাষ্ট্রে স্থানের অভাব রয়েছে এবং এর অর্থ জমি সস্তা নয়। সিঙ্গাপুরে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কিছু সম্পত্তি রয়েছে। একজন কৃষক বিবিসিকে বলেন, তার প্রথম কার পার্ক প্লটের মূল্য ছিল অনেক বেশি। তার মানে তাকে সেটি ছেড়ে দিতে হবে এবং সস্তা কোনো জায়গায় চলে যেতে হবে।

বিবিসি নিউজ যখন আইলিনের খামার পরিদর্শনে যায়, তখন তারা দেখতে পান সেটি আকারে একটি ফুটবল মাঠের এক তৃতীয়াংশের সমান। সেখানে পুরোদমে কার্যক্রম চলছে। শ্রমিকরা চাইনিজ রান্নায় ব্যবহৃত চয় সাম নামের একটি সবজি, সবুজ শাক বাছাই, ছাঁটাই এবং প্যাকিং করতে ব্যস্ত। এদিকে, অপরপ্রান্তে আরেক কর্মচারী নতুন চারা লাগাতে ব্যস্ত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, খামার শুরু করতে তার প্রায় ১ মিলিয়ন সিঙ্গাপুরী ডলার ব্যয় হয়েছে। ফসল তোলার কাজে গতি বাড়াতে সরঞ্জামের পেছনের এই অর্থের বেশিটা চলে গেছে। তিনি জানান, যদিও তিনি কিছু ভর্তুকি পেয়েছেন। তবে এখনো তার ব্যবসা লাভজনক হয়ে ওঠেনি।

তিনি আরও জানান, তার এখানে ১০ জন কর্মচারী রয়েছেন এবং এটির জন্য তাকে বছরে ৯০ হাজার সিঙ্গাপুরী ডলার ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। তার আরেকটি পার্ক সাইট রয়েছে, যেটি এখনো তৈরি করা হচ্ছে। আইলিন বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ছিল করোনা মহামারির মধ্যে। যার কারণে লজিস্টিক ব্যয়টা বেশি ছিল।’

আইলিন জানান, এটি ছিল সরকার থেকে দেওয়া প্রথম কার পার্ক দরপত্র। সুতরাং প্রক্রিয়াটি সবার কাছেই একদম নতুন ছিল।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com