দ্রব্যমূল্যে কারসাজি : ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

দ্রব্যমূল্যে কারসাজি করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
দ্রব্যমূল্যে কারসাজি করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে দেশের বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার নিয়ম ভেঙে চাল, আটা, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, সাবান, ডিটারজেন্টসহ অস্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। যার নেপথ্যে ছিল কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর কারসাজি।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের তথ্যানুসন্ধানে করপোরেট প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ, ইউনিলিভার, প্যারাগন, কাজী ফার্ম, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড, রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডসহ ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের তথ্যানুসন্ধানে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্টভাবে কারসাজির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের তথ্যানুসন্ধানে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্টভাবে কারসাজির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে।ছবি : সংগৃহীত

বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় এরই মধ্যে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্ব-প্রণোদিত হয়ে আটটি মামলাও করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

আগামী ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর এসব মামলার শুনানি হবে।

সপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনের লক্ষ্যে শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ডাকা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যে কারসাজি করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
কারসাজিদের ‘সুবিধা দিতে’ ফের প্রি-ওপেনিং সেশন ফেরাচ্ছে বিএসইসি

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, কারসাজির সম্পৃক্ততা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে প্রতিযোগিতা কমিশন। এখন প্রতিকারের পালা। সে লক্ষ্যে মামলা হয়েছে এবং মামলার জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে।

মফিজুল ইসলাম বলেন, কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা এসব ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান ছাড়া আরও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও স্বপ্রণোদিত মামলার বিষয় প্রক্রিয়াধীন।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্রমতে, বর্তমানে এ ধরনের মামলার সংখ্যা ৪৪। যেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজসহ অন্যান্য মাধ্যমে পরে জানানো হবে।

কমিশন থেকে পাওয়া আট মামলার তালিকায় দেখা গেছে, ডিমের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড, কাজী ফার্মস গ্রুপ এবং ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহর নামে মামলা হয়েছে।

পাশাপাশি মুরগির বাজারে সংকটের দায়েও প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেড ও কাজী ফার্মস গ্রুপের নামে দুটি আলাদা মামলা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যে কারসাজি করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।
তদন্তের খবরে জুয়াড়ি শেয়ারে পিছুটান

চালের বাজারে সংকটের জন্য কুষ্টিয়ার রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রডাক্ট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবদুর রশিদ ও নওগাঁর বেলকন গ্রুপের বেলকন প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেনের নামে মামলা হয়েছে।

একই কারণে বাজারে চাল সরবরাহকারী আরও দুটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে আটা-ময়দার বাজারেও সংকট তৈরির অভিযোগে সিটি গ্রুপের নামে পৃথক মামলা করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন।

এ ছাড়া বাজারে নিত্যব্যবহার্য পণ্য সাবান, সুগন্ধি সাবান এবং গুঁড়া সাবানের দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির দায়ে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে মামলা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com