বেজির আতঙ্কে কয়েক উপজেলার মানুষ

সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল।
সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল।ছবি : সংগৃহীত

বেজির উৎপাতে অতিষ্ঠ সিরাজগঞ্জের কয়েক উপজেলার মানুষ। গত ২১ দিনে শতাধিক মানুষ বেজির আক্রমণের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবাসস্থল কমে যাওয়া এবং খাদ্য সংকটে বেজি মানুষকে কামড়াতে পারে। অপরদিকে বেজির কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেছেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, কামারখন্দ ও কাজিপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে বেজির কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। প্রতিদিনই আক্রান্ত মানুষ ভ্যাকসিন নিতে হাসপাতালে আসছেন।

আজ বুধবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সিরাজগঞ্জ শহরের গোশালা মহল্লায় গৌরী রানী, দীপালি, রাজীব ও তাপসসহ ১০ জনেরও বেশি মানুষ বেজির কামড়ের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া মালশাপাড়া, হোসেনপুর, ধানবান্ধি এলাকায় বেজির কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। খুব সকালে ও সন্ধ্যার দিকে বেশির ভাগ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মদ কালবেলাকে বলেন, ‘গত এক মাস ধরে বেজির কামড়ের ভ্যাকসিন নিতে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ জন হাসপাতালে আসছেন। আক্রান্তদের মধ্যে গ্রামের মানুষই বেশি।’

ফয়সাল আহম্মদ আরও বলেন, ‘বেজি কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। না হলে কুকুরের মতো বেজির কামড়েও জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হতে পারে রোগী।’

বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বেজি সাধারণত মানুষকে কামড়ায় না। তবে আবাসস্থল নষ্ট হওয়া ও খাদ্য সংকটের কারণে বেজি কামড়াতে পারে। আবার জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েও বেজি কামড়াতে পারে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার জানান, কুকুর বা শেয়ালের মতো বেজিও জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত বেজির কামড়ে মানুষেরও জলাতঙ্ক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আক্রান্তদের হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নিতে হবে। জলাতঙ্কের প্রচুর ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নিয়ামুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। বেজির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে স্থানীয় সিচুয়েশন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। যেহেতু এর আগে কখনো বেজির কামড়ের কথা শোনা যায়নি, তাই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা দরকার। আমরা এ ব্যাপারে শিগগিরই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com