প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আসামি, পুলিশ বলছে পলাতক

ইউএনওর সঙ্গে অভিযানে কাউন্সিলর ও অপহরণ মামলার আসামি রুবেল মিয়া (পাঞ্জাবি পরিহিত)।
ইউএনওর সঙ্গে অভিযানে কাউন্সিলর ও অপহরণ মামলার আসামি রুবেল মিয়া (পাঞ্জাবি পরিহিত)।

পুলিশের চোখে পলাতক হলেও অপহরণ মামলার প্রধান আসামি রুবেল কাউন্সিলর দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুধু প্রকাশ্যে ঘুরেই নয়, প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিতি সবাইকে হতবাক করেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া জেরিনের সঙ্গে রুবেলের অভিযানের ছবি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিতর্ক যেন আরও বেড়ে যায়। ইউএনও কালীগঞ্জ ঝিনাইদহের অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে অপহরণ এবং মারপিট মামলার প্রধান আসামি রুবেলকে ইউএনও সাদিয়া জেরিনের সঙ্গে অনিয়মতান্ত্রিক পার্কিং, যানজট ও ফুটপাত দখলে সচেতনতামূলক অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়।

রুবেল ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও শহরের খয়েরতলা গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে। কাউন্সিলর রুবেল একাধিক মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন।

জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অমিত সাহা বিষুকে অপহরণ ও মারপিট করা হয়। এ ঘটনায় তার মা শ্রীমতি ইতি শিকদার ২৬ অক্টোবর কালীগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি রুবেলসহ ইমরান, প্রান্ত মজুমদার ও নাজমুলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে ইউএনও সাদিয়া জেরিন জানান, মঙ্গলবার তিনি শহরে যানজট নিরসনে এসিল্যান্ড মো. হাবিবুল্লাহ, কালীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রহিম ও পৌর মেয়র আশরাফুল আলমকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছিলেন। ওই সময় কাউন্সিলর রুবেলকে তিনি ডাকেননি। হয়তো তিনি মেয়রের সঙ্গে সেখানে আসতে পারেন। বিষয়টি তিনি অবগত নন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই ভবতোষ রায় জানান, এই মামলার ৩ আসামি আদালত থেকে ইতোমধ্যে জামিন নিলেও রুবেল কাউন্সিলর জামিন নেননি।

এসআই আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে রুবেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ থাকায় প্রকৃত ঘটনা জানতে পুলিশ সেদিনকার কল রেকর্ড (সিডিআর) তলব করেছে। সেটি পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার সামনে কখনো রুবেল পড়েনি, তিনি পুলিশের চোখে পলাতক।

বিষয়টি নিয়ে রুবেল মিয়া জানান, আমার নামে যে থানায় মামলা হয়েছে তা আমি জানি না। আর যদি কেউ করে থাকেন তবে সেটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক।

তিনি বলেন, আমি এক সময় মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। পরে আমি আত্মসমর্পণ করে ভালো পথে চলে এসেছি। যে কারণে মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছে।

এদিকে বিষু জানান, দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেদিন অপহরণ করা হয়। তিনি বলেন, একজন অপহরণ মামলার প্রধান আসামি কী করে ইউএনওর সঙ্গে অভিযানে অংশ নিতে পারে?

এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিনা জানান, অপহরণ ও মারপিট মামলার পলাতক আসামি ইউএনও বা পুলিশের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো অপরাধ। আসামিকে জামিন নিতে হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com