মুন্সীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গুলি-কুপিয়ে জখম

আহত ব্যবসায়ী জিয়া সরদার।
আহত ব্যবসায়ী জিয়া সরদার।ছবি : কালবেলা

মুন্সীগঞ্জের এক ব্যবসায়ীকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে রাস্তা থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারীর ভাই শিপন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ওই ব্যবসায়ীর নাম জিয়া সরদার (৪৫)। তিনি সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের নোয়াদ্ধা গ্রামের জেদ্দাল সরদারের ছেলে।

জিয়া ওই ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান মহসীনা হক কল্পনার সমর্থক।

জিয়ার বড় ভাই বাবুল সরদার জানিয়েছেন, জিয়া পোড়া বাজারে ইট-বালুর ব্যবসা করেন। তার মেয়ে দিঘিরপারে জাপানি স্কুলে পড়ে। আজকে তাকে আনতে গেলে বেশনাল ব্রিজে উঠলে একটি মাইক্রোবাস ও তিন-চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে জিয়ার পথ রোধ করে। পরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিয়াকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। গাড়ির ভেতরে মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারীর ভাই শিপন পাটোয়ারী ও তার লোকজন লিটন পাটোয়ারী, শাহ-আলম, জাহাঙ্গীর, সাদ্দাম, কামাল, আরিফ, সোহাগ, মোসলেম, দিলদারকে দেখে জিয়া চিৎকার দিলে তাকে সিটের নিচে ফেলে মারধর করে। পরে তাকে নিয়ে যায় আমঘাটা এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়ির বাগানে। সেখানে নিয়ে শিপন পাটোয়ারী ও তার লোকজন মিলে জিয়ার পায়ে গুলি করে ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে একটি ভ্যানগাড়ি করে দিঘিরপাড় বাজারে পাঠিয়ে দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান।

আহত ব্যবসায়ী জিয়া সরদার।
ইউপি কার্যালয় ও আ.লীগ অফিসে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ছাড়াও পায়ে দুটি গুলি করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহসীনা হক কল্পনা বলেন, কয়েক দিন পর পর রিপন পাটোয়ারীর ভাই শিপন পাটোয়ারী ও তার লোকজন ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে দিনে-রাতে লোকজনদের অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে। গত নির্বাচনের সময় আমার সমর্থকদের তুলে নিয়ে কুপিয়েছে তারা। এ বিষয়ে একাধিকবার পুলিশ সুপার ও থানায় জানানো হলেও তার কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. তারিকুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। এ ঘটনার অন্তরালে কে বা কারা জড়িত রয়েছে সে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যন সমর্থকদের মধ্যে এ ধরনে ঘটনা ঘতে পারে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com