নারায়ণগঞ্জে শিশু ধর্ষণের পর হত্যায় একজনের ফাঁসি

নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।পুরোনো ছবি

নারায়ণগঞ্জে এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার রায়ে নাজিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে দুজনকে। আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় খালাসপ্রাপ্ত মো. ইলিয়াছ মিয়া ও শাহ আলম আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে পলাতক ছিলেন রায়ে দণ্ডিত নাজিম উদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০৬ সালের ১৩ জানুয়ারি সকালে রূপগঞ্জের বিরাব বাজার এলাকায় ১০ বছরের ওই শিশু নিজের জামা আনতে দর্জির দোকানে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। পরদিন ১৪ জানুয়ারি বিকেলে বিরাব এলাকার বাঁশঝাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় নাজিম উদ্দিন ও তার দুই বন্ধু ইলিয়াছ ও শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে একজনকে ফাঁসির আদেশ এবং দু’জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন সেলিম বলেন, ‘ঘটনার শিকার ওই শিশুর বাবা আজহার হোসেনের সঙ্গে নাজিম উদ্দিনদের জমি নিয়ে বিরোধ এবং মামলা মোকদ্দমা ছিল। ঘটনার দিন শিশুটি দর্জির দোকান থেকে তার জামা আনতে গেলে নাজিম উদ্দিন ও তার দুই বন্ধু তাকে কৌশলে রাত পর্যন্ত আটকে রাখে। এরপর এলাকার একটি আম বাগানে নিয়ে ৩ আসামিই শিশুটিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করে।’

তিনি বলেন, ‘নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাজিম উদ্দিন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ওই সময় নাজিম উদ্দিন ১৬৪ ধারায় আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিশুটিকে দুই বন্ধুসহ ধর্ষণ এবং হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি থাকার পরেও দুইজনকে খালাস দেওয়ায় বাদীপক্ষ খুশি হতে পারেননি। তারা উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।’

শিশুটির বাবা আজহার হোসেন বলেন, ‘আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘খালাসপ্রাপ্ত দু’জন আদালতে উপস্থিত থাকলেও পলাতক ছিল রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নাজিম উদ্দিন।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com