রাজশাহীতে এক সপ্তাহে বিএনপির ১০ হাজার নেতাকর্মী আসামি

রাজশাহীতে এক সপ্তাহে বিএনপির ১০ হাজার নেতাকর্মী আসামি
প্রতীকী ছবি।

গত এক সপ্তাহে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে প্রায় অর্ধশত। মামলাগুলো হয়েছে পুলিশের ওপর হামলা, আওয়ামী লীগ পার্টি অফিস ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও উদ্ধারের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে। আটক হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতাসহ শতাধিক।

আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে বিভিন্ন জেলা, উপজেলার ১০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী মামলা খেয়েছেন বলে দাবি দলের নেতাদের।

তাদের দাবি, গণসমাবেশের আগে নেতাকর্মীদের রুখতে পুলিশ এসব মিথ্যা মামলা করছে। নেতাকর্মীরা যাতে সমাবেশে আসতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যে মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ও নাশকতার পরিকল্পনা করায় মামলাগুলো হয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ৬ থেকে ৭ দিনে হাজারের বেশি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মামলার আসামি করা হয়েছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বাগমারা, মোহনপুর, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাঘা এবং পবার কাটাখালী থানায় এসব মামলা হয়েছে। সব মামলার বাদী পুলিশ। তবে সব উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠকের স্থান থেকে তাজা ককটেল জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

রাজশাহীর বাইরে নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটেও একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে মামলা হয়েছে ৭টি। নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে হাজারের বেশি। আটক হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও এমপি নাদিম মোস্তফাসহ ১৩ জন।

বগুড়ায় সর্বাধিক ৮টি মামলায় নাম উল্লেখসহ আসামি করা হয়েছে তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। আটক হয়েছে ১৬ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় হাজার, আটক ১৯ জন। নওগাঁয় ৬ মামলায় আসামি ৯ শতাধিক, আটক ৮ জন। পাবনার ৭ মামলায় আসামি প্রায় হাজার। সিরাজগঞ্জে ৪ মামলায় আসামি ছয় শতাধিক, আটক ৩ জন। নাটোরে মামলা হয়েছে ৩টি, আসামি পাঁচ শতাধিক এবং আটক দুজন। জয়পুরহাটেও একাধিক মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপির ওই সূত্র।

বিএনপি নেতারা জানান, মামলাগুলোর এজাহার প্রায় একই রকম। মামলায় উল্লেখযোগ্য স্থানীয় নেতাকর্মীর নাম দেওয়া হচ্ছে, সঙ্গে অজ্ঞাতনামা ১৬০ থেকে ১৮০ জন আসামি হচ্ছে। অজ্ঞাতনামা আসামিদের সূত্র ধরে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি গিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযান চালাচ্ছে।

রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম সমাপ্ত বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেছে। গণসমাবেশকে কেন্দ্র করেই এসব মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর মোহনপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলায় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবদুস সামাদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব রহমানসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির আরও ১৬০ থেকে ১৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ১৫ নভেম্বর রাতে উপজেলার বসন্তকেদার এলাকায় গোপন বৈঠক করছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পুলিশ গেলে তারা পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে চারটি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল, চাকু এবং কিছু ইট জব্দ করা হয়। এ নিয়ে থানায় মামলা করা হয়।

একই অভিযোগে গত ১৭ নভেম্বর রাতে গোদাগাড়ী থানায় মামলা করে পুলিশ। সেখানে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বিপ্লবসহ (৪৯) পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা প্রায় ২০০ জন।

১৮ নভেম্বর বাগমারা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করে পুলিশ। মামলায় ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান বল্টু, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মহব্বত আলী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুনুর রশিদসহ নাম না জানা ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত ২১ নভেম্বর দুর্গাপুর থানায় ১৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ ১৬০ থেকে ১৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। পুঠিয়া থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৬০ থেকে ১৭০ জনের বিরদ্ধে মামলা করা হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘সমাবেশ বানচালের উদ্দেশ্যে পুলিশ গায়েবি মামলা দিচ্ছে। মামলা, হামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে গণসমাবেশ বানচাল করা যাবে না। ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে এক দফা আন্দোলন শুরু করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে অর্ধশত মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ১০ হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। গণসমাবেশের আগে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় করবে।

নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ রাশিদুল হক বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। নওগাঁয় যে মামলাগুলো হয়েছে তার বাদী সাধারণ মানুষ। পুলিশ আইনের মধ্যে থেকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে।’

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলে, ‘সমাবেশের সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃত ঘটনা অনুযায়ীই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে না।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com