সুনামগঞ্জে পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তি চরমে

বাস ধর্মঘটে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
বাস ধর্মঘটে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সুনামগঞ্জে সড়কে পার্ক করে রাখা বাস জব্দ করার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট চলছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলগামী যাত্রীরা।

আজ শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ধর্মঘট শুরু হয়।

ফারুক মিয়া নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ব্যবসার কাজে জগন্নাথপুর যেতে হবে। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে গতকাল থেকে এখানে আটকা পড়েছি। যতদ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধান হলে যাত্রী হয়রানি থেকে আমরা রক্ষা পাব।’

সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিছ আলী বলেন, ‘ঢাকায় যাওয়ার জন্য সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারি পুলিশের সঙ্গে বাস মালিক সমিতির সমস্যার কারণে ধর্মঘট চলছে।’

সদর উপজেলার মথুরকান্দি গ্রাম থেকে আসা নিউটন বলেন, ‘আগে থেকে কর্মসূচি ঘোষণা দিলে আমাদের এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।’

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, জায়গা না থাকায় আমরা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে গাড়ি সড়কের পাশে রাখছি। এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়কেও লিখিত দিয়েছি। বাসস্ট্যান্ডের পুকুর ভরাট করে স্ট্যান্ড বড় করার জন্য বলেছি। স্ট্যান্ড বড় হলে সড়কের পাশে গাড়ি আর রাখতে হবে না। কিন্তু তা না করে গতকাল আমাদের তিনটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। তাই আমরা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।

জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক জানান, সুনামগঞ্জ বাস টার্মিনালে সব লোকাল বাস রাখা যায় না। এর মধ্যে আন্তঃজেলা বাস রয়েছে ৮০টিরও বেশি। এই বাসগুলো টার্মিনালে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা বাস টার্মিনালের পুকুর ভরাট করে টার্মিনাল বড় করার দাবি জানিয়েছি। সেটিও হচ্ছে না। ফলে সড়কেই বাস রাখতে বাধ্য হচ্ছেন আন্তঃজেলা বাসের চালক শ্রমিকরা।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এহসান শাহ্ বলেন, সড়কে বাস রাখায় জনসাধারণের ভোগান্তি হয়। ফলে তৈরি হয় যানজট। আইনশৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন সভায় এ বিষয়টি বারবারই আলোচনা হয়। এ অবস্থায় ট্রাফিক কন্ট্রোলের জন্য তিনটি বাস পুলিশ লাইন্সে এনে রাখা হয়েছে। এ কারণে কর্মবিরতি ডেকে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যুক্তিযুক্ত হবে না।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com