পাখিদের সমারোহে অপরূপ হয়ে উঠেছে নওগাঁর আত্রাই

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর তীরে পরিযায়ী পাখির জলকেলি।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর তীরে পরিযায়ী পাখির জলকেলি।ছবি : কালবেলা

নওগাঁর আত্রাই নদীর পাশে দাঁড়ালেই শোনা যায় পাখির কিচিরমিচি। নদীতে দেখা যায় পরিযায়ী পাখির জলকেলি। প্রতি শীতেই দলবেঁধে চলে আসে ওরা। পাখিদের সমারোহে আত্রাইয়ের প্রকৃতি তখন সেজে ওঠে এক অপরূপ সাজে। এসব পাখিকে ঘিরে এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন পর্যটকরা।

প্রায় ১২ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে আত্রাই পাড়ে।
প্রায় ১২ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে আত্রাই পাড়ে।ছবি : কালবেলা

শীতকালে পরিযায়ী পাখিগুলো নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদী তীরের পুরো কুঞ্জবন এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকে। এ বছর শীতে বালিহাঁস, সরালি হাঁস, পিয়াং হাঁস, ছন্নি হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, পাতিকুট, শামুকখোল, পানকৌড়ি, রাতচোরাসহ প্রায় ১২ জাতের পাখি দেখা গেছে সেখানে। এরা রাতে ফিরে যায় রামচন্দ্রপুর ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন গাছে। এসব পাখি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন পাখিপ্রেমীরা।

পাখি দেখতে আসা বাবু, প্রান্তসহ অন্যান্য দর্শনার্থীরা বলেন, এখানে এসে অতিথি পাখি দেখে মনটা ভরে যায়। খুব সুন্দর পরিবেশ ও মনোমুগ্ধকর এই জায়গা। অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ। এলাকাটিকে যদি পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা যায় সেক্ষেত্রে প্রতি বছর এখানে পরিযায়ী পাখি আরও বেশি করে আসত।

এসব পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিতে দাবি জানিয়েছেন পাখিপ্রেমীরা।
এসব পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিতে দাবি জানিয়েছেন পাখিপ্রেমীরা।ছবি : কালবেলা

দর্শনার্থীরা  আরও বলেন, এসব পাখিকে ঘিরে এলাকাটিতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে পানিতে পড়ছে। কিছু আবার বাঁশের ওপর বসে আরাম করছে। এখানে যাতে কোনোক্রমেই ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি না হয় সেদিকে প্রশাসন ও স্থানীয়দের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মহাদেবপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘আত্রাই নদীর যেসব স্থানে পাখিদের অবাধ বিচরণ আছে, সেসব স্থানে মাছ শিকারের কারণে যেন পাখিদের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত না হয় এবং কেউ যেন পাখি শিকার করতে না পারে, সে বিষয়ে মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে নজরদারি রয়েছে। এ ছাড়া কেউ যদি পাখি শিকার করে, আমরা জানতে পারলে বন বিভাগের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়রাও কাজ করছে এসব পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়রাও কাজ করছে এসব পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।ছবি : কালবেলা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু হাসান বলেন, ‘আত্রাই নদীতে যেসব স্থানে পাখিদের অবাধ বিচরণ আছে সেসব স্থান নিরাপদ রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অতিথি পাখিদের আবাসস্থলকে নিরাপদ করে অভয়ারণ্যে পরিণত করে পর্যটকমুখী করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে।’

এ ছাড়াও পাখিগুলোর নিরাপদ বসবাসের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে নওগাঁর স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোও।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com