বাবুর ‘বিদ্রোহে’ অস্বস্তি রংপুর আওয়ামী লীগে

বাবুর ‘বিদ্রোহে’ অস্বস্তি রংপুর আওয়ামী লীগে
প্রতীকী ছবি।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ডালিয়ার পক্ষে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাশেমের নেতৃত্বে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামীম তালুকদার, মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নওশাদ রশীদ, নিধুরাম অধিকারী, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাহেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক আবু সাদাত মো. শাওন, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন লাভলু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রনি, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌসী জেসমিন মালা উপস্থিত ছিলেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাশেম বলেন, বুধবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়াকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে রয়েছি। আমাদের বিশ্বাস আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী রংপুর সিটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। কারণ তার পক্ষেই দলের সবাই কাজ করবেন।

নির্বাচনে অন্য দলগুলো আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নে দেরি হওয়ায় উৎকণ্ঠায় ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশীসহ তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা। বুধবার আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী ঘোষণা করায় সেই উৎকণ্ঠার অবসান ঘটলেও এক দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার এক মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করায় নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে।

একই দিন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবুর পক্ষেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সময় আসাদুজ্জামান রাসেল, শহিদুল ইসলাম, রনি, মাহিনসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই নিয়ে রংপুরের সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে। সেই আলোচনায় উঠে আসছে, যারা এতদিন নির্বাচনী মাঠে ছিল তাদের কেউই মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন বঞ্চিতদের ক্ষোভ নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকলে বেকায়দায় পড়বে আওয়ামী লীগ। কারণ নৌকার প্রার্থী ‘ডালিয়া’তেও যুক্ত হলো কাঁটা।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবু মনোনয়ন সংগ্রহ প্রসঙ্গে বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে নির্বাচনী মাঠে রয়েছি-নির্বাচন করব। আমি ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান ভোট করেছি। আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। উন্নয়নের মার্কা নৌকা একজন যোগ্য মানুষ পাবে, নগরবাসীর এমনটাই প্রত্যাশা ছিল; কিন্তু সেটা হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা আতাউর জামান বাবু বলেন, আমি রংপুরের মানুষের স্বার্থে দল থেকে বহিষ্কার হতেও রাজি আছি।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছিলেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবু ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টিরও একই অবস্থা। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের প্রার্থী দাবি করে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়েছে সাবেক পৌর মেয়র ও জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম আব্দুর রউফ মানিকের পক্ষে। এর আগে জাতীয় পার্টি থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে মনোনয়ন দেন দলের মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু। ইতোমধ্যে মোস্তফা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

এদিকে মানিকের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় জি এম কাদেরের সঙ্গে রওশন এরশাদের বিরোধ আরও বাড়ল বলে অনেকে মনে করছেন। মানিকের পক্ষ দাবি করছেন, তারাই লাঙ্গল প্রতীক পাবেন। অপরদিকে জি এম কাদের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা অনেকে আগে থেকেই লাঙ্গলের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তবে লাঙ্গল নিয়ে জট এখনো খোলেনি। শেষ পর্যন্ত কে লাঙ্গল পাবেন, তা নিয়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা।

আগামী ২৭ ডিসেম্বর রংপুর সিটির ভোটগ্রহণ হবে। মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৮ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৯ ডিসেম্বর।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com