জামালপুরে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

অভিযুক্ত চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলাম।
অভিযুক্ত চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলাম।ছবি : সংগৃহীত

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়নের ভূমি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতি ও সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের বিষয়ে জানতে গেলে দৈনিক আজকের পত্রিকার মেলান্দহ উপজেলা প্রতিনিধি রকিব হাসান নয়ন ও ভোরের কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি সাকিব আল হাসান নাহিদকে ধাক্কা দিয়ে ভূমি অফিস থেকে বের করে দেন ভূমি কর্মকর্তা। ওই দিন রাতে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিকের অভিযোগ, “গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের বিষয় জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। এ সময় তিনি বলেন, ‘কে অভিযোগ করেছে? তার নামে মানহানি মামলা করব। আমার অফিসে সাংবাদিক এলে ইউএনও অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে।‌ তোরা কি অনুমতি নিয়ে এখানে আইছোস?’ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ার থেকে উঠে এসে আমাদের ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেন।”

সাংবাদিক রকিব হাসান নয়ন বলেন, ‘বুধবার দুপুরে ভূমি অফিস কার্যালয়ের সামনে দিয়ে মেলান্দহ পৌর শহরে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার সময় দেখি, ভূমি কার্যালয়ে জমি-সংক্রান্ত ও ঘুষ দেওয়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা চলছে। তা দেখে ভূমি কার্যালয়ে যাই আমরা। ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসদাচরণ ও‌ ঘুষ-বাণিজ্যের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে আমাদের বের করে দেন।’

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাকিব আল হাসান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে সাংবাদিক পরিচয় জেনে ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলামের বিরুদ্ধে  ঘুষ, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে করেন মুক্তা বেগম নামের এক স্বামী পরিত্যক্ত নারী। পরে গতকাল বুধবার দুপুরে এ বিষয়ে ওই ভূমি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং আমাদের লাঞ্ছিত করে বের করে দেন।’

মুক্তা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ শতাংশ জমি খারিজ (নামজারি) করতে আমার কাছে থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়েছে ছানাউল। পরে তিনি আমার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এরপর খারিজের কাগজ ইউএনও অফিস থেকে নিয়েছি।’

স্থানীয়রাও ওই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ করে জানান, চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার রুমের দরজা বন্ধ থাকে সব সময়। সেখানে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না। ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ-বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।

অভিযুক্ত চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলাম।
পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত!

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার সঙ্গে কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ এ কথা বলেই ফোন কেটে দেন তিনি।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম মিঞা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ওই ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com