মেঘনায় টেকসই বাঁধ চান ভাঙনে ‘তালুকদার’ থেকে ভূমিহীন মফিজুল

বাঁ দিক থেকে মফিজুলের বেয়াই আবুল বাশার এবং ভূমি হারিয়ে নিঃস্ব মফিজুল ইসলাম।
বাঁ দিক থেকে মফিজুলের বেয়াই আবুল বাশার এবং ভূমি হারিয়ে নিঃস্ব মফিজুল ইসলাম। ছবি : কালবেলা

এক সময়ের ‘তালুকদার’ মফিজুল ইসলাম এখন ভূমিহীন। কারণ গত দেড় দশকে তাদের ‘তালুকের’ সবটাই গিলেছে মেঘনা। নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে তাদের বসতবাড়ি, ভিটে, ফসলি জমি, বাগান ও পুকুর। ভাঙনে নিঃস্ব মফিজুল লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চরফলকন ইউনিয়নের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বসবাস করছেন বেড়িবাঁধের পাশে। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ইমামতি।

মফিজুল বলেন, ‘১৫ বছর আগে আমাদের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমার আড়াই একর সম্পত্তি ছিল, সবই গেছে নদীতে। তালুকদার বংশের ছিলাম। বংশের অনেকে এখন ভূমিহীন। এক সময় আমাদের নামের পাশে তালুকদার বসানো হতো। এখন লাগানো হয় ভূমিহীন। রাক্ষসী মেঘনা সবই খেয়ে নিয়েছে।’

লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় নির্মাণাধীন তীররক্ষা বাঁধ।
লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় নির্মাণাধীন তীররক্ষা বাঁধ।ছবি : কালবেলা

মফিজুল চান মেঘনায় তীররক্ষা বাঁধ হোক, যাতে আর কেউ তার মতো নিঃস্ব না হন। অবশ্য এখন সেই বাঁধের কাজও চলছে।

বাঁধের কাজ দেখতে এসে মফিজুল বলেন, এখন মেঘনার তীররক্ষা বাঁধের কাজ চলছে। তাই কাজ দেখতে এসেছি। কাজটা যেন দ্রুত ও টেকসই হয়। তবে কাজের ধরন দেখে কিছুটা আশাহত হয়েছেন তিনি।

মফিজুলের বেয়াই আবুল বাশার বলেন, ‘আমার বাড়ি মেঘনা নদীর খুব কাছাকাছি। বাড়ির পাশ দিয়ে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্মাণকাজের ধরন দেখে আমরা ভরসা পাচ্ছি না। উত্তাল মেঘনা প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকা কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের বসতিটা যদি না টেকে, তাহলে আমরাও ভূমিহীন হয়ে যাব।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com