পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।ছবি : কালবেলা

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তির সাত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন পৌরসভার ৫ কাউন্সিলর। আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে কেশরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড  কাউন্সিলর একরামুল, ৮নং নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসলাম হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছাবের আলী ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল হাফিজ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুল আক্তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদ বিগত ৭ বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। এডিপির অর্থায়নে কেশরহাট পৌরসভায় প্রতি অর্থবছরে ৭৮ থেকে ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই অর্থ পৌরসভার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে টেন্ডারের মাধ্যমে ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও মেয়র  ভুয়া বিল বানিয়ে তা পুরো আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, উপপরিচালক স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক ঘেঁষে এই অঞ্চলের বিখ্যাত আর্থিক লেনদেন সমৃদ্ধ বাজার কেশরহাট। এখান থেকে প্রতি বছর এক কোটি টাকার ওপরে হাটের ইজারা মূল্য আদায় করা হয়। এ ছাড়া ভূমি কর, রেজিস্ট্রি অফিস ও হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করলেও সে অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি। বরং কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে নামে-বেনামে বিভিন্ন বিল ভাউচার ব্যবহার করে ও মেয়র নিজের দাম্ভিকতা দেখিয়ে ভোগ বিলাস আর বিপুল সম্পদ গড়েছেন।’

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।
অর্থ আত্মসাতের মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

লিখিত বক্তব্যে কাউন্সিলর আরও বলেন, ‘গত ২ থেকে ৩ মাস আগে বিশেষ বরাদ্দ বাবদ ৫০ লাখ টাকা জনসাধারণের উন্নয়নে ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু মেয়র এই নিজের অফিসের সাজসজ্জার কাজে এসব টাকা ব্যয় করে। এ ছাড়া কেশরহাট উন্নয়নে ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য সরকার এনসিডিপি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। সেখানে ব্যবসায়ীদের ভাড়ার টাকা উন্নয়ন খাতে জমা হওয়ার কথা। তবে মেয়র সেসব দোকান নিজের মনোনীত ব্যক্তিদের ভাড়া দিয়ে সেই টাকাগুলো আত্মসাৎ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে পৌরসভায় বিএমডিএফের প্রায় ৬ কোটি টাকা অর্থায়নে পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণ হয়। মেয়র এই দ্বিতল ভবনের প্রায় শতাধিক ঘর কোনো রেজুলেশন ও নিয়ম-নীতি ছাড়া বরাদ্দের মাধ্যমে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।’

কাউন্সিলর বাবুল আক্তার  বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে মেয়র শহিদের সম্পদের পরিমাণ শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার নিজস্ব ব্যবসা-বাণিজ্য, জমি-জমা বা পরিবারের কেউ কোনো চাকরি না করেও নিজ গ্রামে ডুপ্লেক্স দুটি ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। এ ছাড়া তার ছোট ভাই ও কেশরহাট পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক রোকনুজ্জামান টিটু দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকার অট্টালিকা গড়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন কেশরহাট পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপকর্মের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অর্জনকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।’

রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।
প্রশিক্ষণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ দায়িত্বপ্রাপ্তরা

অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ কালবেলাকে বলেন, ‘এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। যারা এসব অভিযোগ করেছে তারা কখনো আওয়ামী লীগ করেনি। তাদের বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা নিয়ে ব্যস্ত আছি। ব্যস্ততা শেষ করে তাদের অনিয়মের খতিয়ানও জনগণের সামনে উন্মোচন করা হবে।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com