তাজরীন ট্র্যাজেডির বিচার এগোয়নি

পুরোনো ছবি
পুরোনো ছবি

এক দশক আগে আজকের দিনে আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১১ শ্রমিক নিহত হন। ভয়াবহ ওই ঘটনার পরদিন ২৫ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও জমা দেওয়া হয়। ঘটনার তিন বছর পর ২০১৫ সালে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচার। গত সাত বছরে মাত্র ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। বিচার চলাকালীন মামলায় ছয় পুলিশসহ ২৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে তারা উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণে আটকে আছে মামলার বিচার। ফলে দশক পার হলেও আলোচিত এ মামলার বিচার এগোয়নি।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। মোট ১০৪ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। ২০১৬ সালে মামলার বাদী এসআই খায়রুল ইসলামসহ পাঁচজন আদালতে সাক্ষ্য দেন। ২০১৭ সালে দুজন, ২০১৯ ও ২০২১ সালে একজন করে দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে ২০১৮ ও ২০২০ সালে এ মামলায় কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১৮ মে দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক ছিল। সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ আগামী ১ জানুয়ারি দিন ঠিক করেন। এজন্য চার সাক্ষীর বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত শেষে পরের বছর ১৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক একেএম মহসিনুজ্জামান খান আদালতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

পুরোনো ছবি
তিস্তা সেতুর ৪০ ভাগ কাজ শেষ, খুলতে যাচ্ছে সম্ভাবনার দুয়ার

আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানের মালিক দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, শামীম, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, নিরাপত্তারক্ষী রানা ওরফে আনোয়ারুল, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর ও শহীদুজ্জামান দুলাল। এর মধ্যে আল আমিন, আনোয়ারুল, শামীম ও মোবারক পলাতক রয়েছেন।

৬ পুলিশসহ ২৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা : ২৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এর পরও তাদের আদালতে হাজির করতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে ছয় পুলিশ কর্মকর্তা হলেন তৎকালীন আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক এসএম বদরুল আলম, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তফা কামাল, আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান, সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী উপপরিদর্শক জাহিদুর রহমান, উপপরিদর্শক রবিউল আলম ও এএসআই শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ২০ শ্রমিকের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তাদেরও আদালতে হাজির করা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী একেএম শাহ নেওয়াজ কালবেলাকে বলেন, ‘এ মামলার সাক্ষীদের হাজিরের জন্য সমন জারিসহ সরাসরি ফোন করেও কথা বলা হয়। তাদের আদালতে আনতে জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবু সাক্ষীরা আদালতে আসে না।’ তাজরীন ফ্যাশনের মালিক দেলোয়ারের আইনজীবী এটিএম গোলাম গাউস বলেন, ‘সাক্ষী হাজির না হওয়ায় মামলাটি গতি পাচ্ছে না।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com