বিরামপুরে চলাচলের অনুপযোগী ২৪৬ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা

চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কাঁচা রাস্তাগুলো।
চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কাঁচা রাস্তাগুলো।ছবি : কালবেলা

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ২৪৬ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাগুলো এখন চলাচলের অনুপযোগী। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানায়, রাস্তার বেহাল দশায় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তাগুলো পাকা করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগ, গ্রামের ভেতর এবং এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে চলাচলের কাঁচা রাস্তাগুলো ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব কাঁচা রাস্তা দিয়ে জমিচাষের ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ও মাদকসেবীরা মোটরসাইকেলে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করার কারণে রাস্তাগুলো বেশি নষ্ট হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে দেখা যায়, মুকুন্দপুর ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের মক্তবের মোড় থেকে বেড়াখাই গ্রাম পর্যন্ত ১ কিলোমিটার, ভেলারপাড় গ্রামের দক্ষিণ মনসুর আলীর হাসকিং মিল থেকে বিশ্বনাথপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে সাগাইহাটা মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার, জগদীশপুর গ্রাম থেকে মল্লিকপুর হয়ে মুকুন্দপুর পাকা রাস্তার মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার রাস্তা এখন কাদাজলে একাকার।

চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কাঁচা রাস্তাগুলো।
রং নাম্বারে প্রেম, প্রথম দেখাতেই প্রাণ গেল প্রেমিকার

মুকুন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তাগুলো বর্ষা এলেই চলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী রাস্তাগুলো পাকাকরণের জোর দাবি করে আসছে। আমি রাস্তা পাকা করার বিষয়টি উপজেলা পরিষদকে অবগত করেছি।

এদিকে কাটলা ইউনিয়নের শৈলান থেকে বেনুপুর গ্রামে যাওয়ার ২ কিলোমিটার রাস্তা, কাটলা বাজারের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে হিন্দুপাড়া হয়ে উত্তর দাউদপুর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার, খিয়ার মামুদপুরের ভাঙাদিঘীর সামনে আফালের বাড়ি থেকে দক্ষিণে গ্রামের ভেতর দিয়ে কসবাসাগরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তাটি লালমাটির কাদায় নষ্ট হয়ে গেছে।

দিওড় ইউনিয়নের বেপারীটোলা থেকে আঠারোজানি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার, কোচগ্রাম থেকে গোপালপুর ১ কিলোমিটার, কোচগ্রাম থেকে দেবরপাড়া ১ কিলোমিটার, নলিয়ারপাড়া থেকে মাগুরাপাড়া ১ কিলোমিটার, বিজুল গ্রামের ভেতর থেকে বেলখুর দিওড় ইউনিয়নের শেষ সীমানা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার, বেপারীটোলা থেকে বৈদাহার প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রাস্তাগুলো চলাচলের উপযুক্ত নয়।

দিওড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দল মালেক মন্ডল বলেন, ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে এই ইউনিয়নের রাস্তাগুলো বেশিরভাগই কাঁচা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাগুলোতে জনসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

বিনাইল ইউনিয়নের মোহনপুর মোড় থেকে চৌঠা গ্রামে বিজিবি ক্যাম্প হয়ে খিয়ার দুর্গাপুর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার ও দেশমা বাজার থেকে গঙ্গাদাসপুর গ্রাম হয়ে তিত্তস্বর গ্রামের মোড়ে সামনে দিয়ে মৌগ্রাম পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের অযোগ্য।

জোতবানী ইউনিয়নে বেড়াখাই গ্রামের শেষ প্রান্ত থেকে খয়েরবাড়ি ও জোতমাধব (আমগছি) হয়ে শালবাগানের ভিতর দিয়ে কেটরাহাট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার, কচুয়া-মির্জাপুর থেকে টেগরা বটতলী মোড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার ও চতুরপুর মাদ্রাসা মোড় থেকে কসবাসাগরপুর হয়ে পাঠানচড়া বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অযোগ্য। জোতবানী পাকা রাস্তা থেকে চকশুলবান পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রাস্তা গত দেড় বছর আগে পাকাকরণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর খোঁড়াখুঁড়ি করলেও এখনো সেখানে ইট বিছানো হয়নি। এতে করে সে রাস্তাটিতে কাদাসহ জলাবদ্ধতায় গ্রামের মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

বেনুপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়েন উদ্দিন মন্ডল বলেন, প্রতিবছর এ রাস্তা দিয়ে বর্ষাকালে কাদামুক্ত থাকে। নির্বাচন এলে নেতাদের উন্নয়নের তালিকায় আমাদের বেনুপুর গ্রামের নাম আগেই গণনা করা হয়। কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ নেয় না।

বিনাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া কালবেলাকে জানান, আমার বিনাইল ইউনিয়ন সীমান্ত এলাকা এবং এখানকার ৯৫ ভাগ রাস্তাঘাট কাঁচা রয়েছে। বর্ষার সময় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

উপজেলার গ্রামের রাস্তাগুলোর বেহাল দশা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু বলেন, উপজেলার সব ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে এলাকার চাহিদা অনুযায়ী রাস্তা পাকাকরণের জন্য একটি চাহিদা স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিকট দেওয়া হয়েছে। বাকি রাস্তাগুলোর উন্নয়ন কাজ পর্যায়ক্রমে করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী এফ.এ.এম রায়হানুল ইসলাম জানান উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৩৮৯ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। তার মধ্যে ১৩৬ কিলোমিটার মূল রাস্তা পাকা হয়েছে এবং ৭ কিলোমিটার আধাপাকা রয়েছে। বাকি ২৪৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ প্রক্রিয়াধীন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com