শেরপুর জেলার উন্নয়নে ৮ দাবি

নাগরিক সমাবেশ করেছে শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ।
নাগরিক সমাবেশ করেছে শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ।ছবি : কালবেলা

শেরপুর জেলার উন্নয়নে ৮ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ করেছে জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশ করে শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। ৮ দফা দাবি শেরপুর জেলার দল-মত নির্বিশেষে সব মানুষের প্রাণের দাবি। বর্তমান সরকার সারা দেশে উন্নয়ন করলেও শেরপুর জেলায় তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি, যা আমাদের দাবির মধ্যেই পরিষ্কার বোঝা যায়।

‘আমরা বর্তমান সরকারের কাছে দাবি করব অন্যান্য জেলার মতো আমাদের জেলাকে উন্নত জেলা হিসেবে তৈরি করতে ৮ দফা বাস্তবায়ন করবে খুব দ্রুততার সঙ্গে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বৈষম্যহীন ব্যবস্থাপনার তাগাদা দিয়েছিলেন কিন্তু আমরা শেরপুর জেলাবাসী উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। নাগরিক সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে ঢাকাস্থ শেরপুর জেলা সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণির-পেশার মানুষ।’

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঢাকা থেকে শেরপুরের দূরত্ব ১৮৫ কিলোমিটার, যেতে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা, ভাড়া লাগে ৫০০ টাকা সর্বনিম্ন। অথচ যদি রেল যোগাযোগ থাকত তাহলে খরচ পড়ত সর্বনিম্ন ১০০ টাকা। আমরা শেরপুরবাসী সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাই না, দারিদ্র্যমুক্তও চাই না। আমরা চাই অন্যান্য জেলার মতো বিশ্ববিদ্যালয়, রেলপথ, শিল্প উন্নয়ন পার্ক, স্থলবন্দর উন্নয়ন, মেডিকেল কলেজ এবং শেরপুর জেলাকে পর্যটন নগরী হিসেবে ঘোষণা করা।

সংহতি প্রকাশ করে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ বলেন, গত ৯ অক্টোবর এই প্রেস ক্লাবের সামনেই ৮ দফার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর রেল মন্ত্রণালয় শেরপুর জেলার রেলপথ নিয়ে একটি সভা করেছে। কিন্তু তার ফল বা কার্যক্রম এখনো পরিলক্ষিত হয়নি। মানবিক সরকারের কাছে আমাদের দাবি, শেরপুর জেলার জনগণের সঙ্গে ন্যায়বিচার এবং ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করবে।

৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে

১. ঢাকা থেকে শেরপুর যাতায়াতের জন্য ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুরের নকলা উপজেলার মধ্য দিয়ে শেরপুর সদর পর্যন্ত রেল সড়ক নির্মাণ। যা পরবর্তীতে শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জ ও রাজিবপুর রৌমারী পর্যন্ত প্রশস্ত করা যেতে পারে।

২. আধুনিক উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসা শাস্ত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন।

৩. শেরপুর যেহেতু কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা- তাই এখানে কৃষি, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি আধুনিক উচ্চতর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

৪. শেরপুর শহরের নাগরিকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে শেরপুর পৌরসভার পাশাপাশি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নামে আলাদা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে এবং পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে আধুনিক শহরে উন্নীতকরণ।

৫. ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণকে লক্ষ্য রেখে সরকার সারা দেশে ১০০টি আইটি পার্ক স্থাপন করছে। আমাদের দাবি, শেরপুর জেলায় কৃষি উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সীমান্ত রক্ষায় প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি আইটি পার্ক স্থাপন।

৬. ১৯৯৬ সালে নাকুগাঁও স্থলবন্দর চালু হলেও এখানে যাতায়াতের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। আমাদের দাবি নাকুগাঁও স্থলবন্দরকে আধুনিক উন্নত স্থলবন্দরে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৭. শ্রীবরদী, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।

৮. শেরপুর জেলায় দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও অসৎ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য দেন—শেরপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী হাফিজুল করিম রুবেল, সুমন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মো. মোস্তফা কামাল বাদল, আবুল কাসেম মজুমদার, অধ্যাপক মাসুদ হাসান বাদল, সুমন আহমেদ, ফরহাদ সরকার, আনোয়ার হোসেন, মো. সুমন মোল্লা, মেজবাউর রহমান সোহেল, নজরুল ইসলাম, মো. রোকন, মোতালেব মিরাজ, সোহেল রানা, মো. জসিম শেখ, মাহমুদুল হাসান, নুর আলম মন্ডল, খান শফিক, তনু হাফিজসহ অনেকে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com