সীমান্ত সম্মেলনে ৮ বিষয়ে সম্মত বাংলাদেশ-ভারত

সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে যৌথটহল জোরদার করার উদ্যোগ
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ ও বিএসএফ মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিং।
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ ও বিএসএফ মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিং।ছবি: সংগৃহীত

সীমান্তে হত্যা, পাচার রোধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ৮ বিষয়ে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) পিলখানার সদর দপ্তরে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনা শেষে এ তথ্য জানানো হয়। এদিন বিএসএফ মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিং ও বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদের যৌথ আলোচনার দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হয়েছে ৫ দিনব্যাপী ৫২তম সীমান্ত সম্মেলন।

সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে ভারতীয় প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিজিবি মহাপরিচালক। এসময় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিএসএফ মহাপরিচালকের প্রতি আহ্বান জানান বিজিবি মহাপরিচালক।

এসময় সীমান্তে হত্যার পাশাপাশি মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান, মানব পাচার, অবৈধ সীমান্ত পারাপার এবং সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আলোকপাত করেন বিজিবি মহাপরিচালক। এসব অপরাধ দমনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসএফের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সীমান্তে উভয় দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যা ও মারধরের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে অধিক সতর্কতামূলক ও কার্যকরী উদ্যোগ হিসেবে সীমান্তে যৌথটহল পরিচালনার ব্যাপারে উভয়ে পক্ষ সম্মত হয়। এছাড়া মাদকদ্রব্য পাচার, আগ্নেয়াস্ত্র, জালমুদ্রা, স্বর্ণ চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (সিবিএমপি) বাস্তবায়ন এবং উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী উপকৃত হবে এমন তথ্য আদান-প্রদানে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।

পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মানব পাচার, সীমান্ত পিলার উপড়ে ফেলা ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ থেকে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে বিরত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হন। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের ব্যাপারে একমত হন।

সীমান্তের উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষ নিজেদের ১৫০ গজের মধ্যে বন্ধ থাকা উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে নিজ নিজ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করে তা ত্বরান্বিত করার ব্যাপারে পারস্পরিক সম্মতি জ্ঞাপন করেন। পারস্পরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে যৌথ নদী কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত সীমান্তের অভিন্ন নদী সমূহের বন্ধ থাকা তীর সংরক্ষণ কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষ বিদ্যমান পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখা ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির জন্য সিবিএমপির আওতায় বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সাক্ষাৎ ইত্যাদি বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণে সম্মত হয়েছেন।

এদিন রাজশাহী সীমান্তের চর মাজারদিয়া ও খানপুর এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর ভারতীয় অংশের ১.৩ কিলোমিটার চ্যানেল ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা আখাউড়া-লাকসাম রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ পুনরায় চালু করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার জন্য তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন বিএসএফ মহাপরিচালক।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com