রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমাবেশ, চেয়ারে বসা নিয়ে মারামারি

রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপে মারামারি।
রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপে মারামারি।ছবি : কালবেলা

সামনের চেয়ারে আসন দখলকে কেন্দ্র করে রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর কোর্ট ঢালান এলাকার লোটাস কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। মারামারিতে উভয় গ্রুপের অন্তত তিনজন কর্মী আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিকাল সাড়ে ৩টায় ওই কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এসএম জিলানী। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন- সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুসরাত ইলাহি রিজভীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কর্মী সমাবেশ শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে কমিউনিটি সেন্টারের অভ্যন্তরে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রবেশ করছিল। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি গ্রুপ সামনের সারিতে বসার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে। এতে অন্য একটি গ্রুপ বাধা দিলে উভয় গ্রুপের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই এ সময় দলের কর্মীরা একে অপরকে চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম জিলানী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে কমিউনিটি সেন্টারের অভ্যন্তরের পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে ও এর আশপাশের এলাকায় উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় আরও অন্তত দুজন আহত হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে কর্মী সম্মেলন শুরু হয়।

জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নূসরাত ইলাহি রিজভী বলেন, ‘বিএনপি দেশের একটি বৃহৎ সংগঠন। আর বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন হলো স্বেচ্ছাসেবক দল। হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেয়। কর্মীদের মধ্যে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ শুরু হয়েছে।’

মহানগরীর রাজপাড়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে এটি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেই। তবে সেখানে পুলিশের একটি টিম আগে থেকেই অবস্থান করছিল। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com