ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় শিশুর জন্ম : ঘাতক ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

বাম পায়ে সমস্যা ছিল সেই ট্রাক চালকের, ট্রাকের ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স ছিল না
ট্রাকচাপায় ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু (বাম পাশে) ও ট্রাক চালক মো. রাজু (ডান পাশে)
ট্রাকচাপায় ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু (বাম পাশে) ও ট্রাক চালক মো. রাজু (ডান পাশে)ছবি: কালবেলা

চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত ময়মনসিংহে ট্রাকের চাপায় বাবা-মাসহ এক সন্তান নিহত ও চাকার চাপায় শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘটনায় ঘাতক ট্রাক চালক মো. রাজু আহমেদ ওরফে সিপনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সোমবার (১৮ জুলাই) ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত রাজু গত ১১ জুলাই থেকে একটানা মালামাল পরিবহন করে আসছিল। এর মধ্যে সে একবার রাজশাহী থেকে আম নিয়ে কিশোরগঞ্জের তারাইলে মালামাল আনলোড করে পুনরায় রাজশাহী ফিরে যায়। গত ১৫ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট থেকে গাড়ির মালিকের আম বোঝাই করে এবং পরবর্তীতে রাজশাহীর নৌহাটা থেকে আরেক দফায় আলু বোঝাই করে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের এক ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাত ১২ টায় রওয়ানা করে। পথিমধ্যে সে হালকা বিরতি নিয়ে দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত একটানা গাড়ি চালিয়ে আসছিল। কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে ময়মনসিংহের ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে রাস্তা পারাপারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা নিহত জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী-সন্তানকে ট্রাকটি চাপা দেয়।

দুর্ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন ট্রাকটি থামায়। তখন সুযোগ বুঝে গ্রেপ্তারকৃত রাজু ঢাকাগামী একটি বাসে উঠে পড়ে। পরে ময়মনসিংহের বাইপাসে নেমে একটি সিএনজি করে প্রথমে মুক্তাগাছা এবং পরে অপর একটি বাসে করে সে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় পৌঁছায়। সেখান থেকে সে তার পরিচিত বিভিন্ন ট্রাক চালকের ট্রাকে উঠে আত্মগোপনে থাকে। গতকাল সোমবার এমন একটি ট্রাক সাভারে পৌঁছালে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হ

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, রাজু শতকরা ১০ শতাংশ কমিশনে বর্তমান ট্রাকটি চালিয়ে আসছিল। গাড়িটির বর্তমানে ট্যাক্স টোকেন এবং ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ উত্তীর্ণ। এছাড়া গাড়িটির ধারণ ক্ষমতা ৭ টন হলেও দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির ওজন ১৩.৫ টন ছিল। তার ভারী যানবাহন চালানোর কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। এর আগে তার মাঝারী আকৃতির গাড়ি চালানোর জন্য লাইসেন্স ছিল। তবে তা ২০১৬ সালে হারিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত রাজু ২০০২ সালে যশোরের এক ট্রাক ড্রাইভারের হেলপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সেই দুর্ঘটনায় তার বাম পা মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার ফলে সে প্রায় ৬ বছর গাড়ি চালায়নি। তার এখনও বাম পায়ে সমস্যা রয়েছে। বিগত ১০ বছর ধরে সে নিয়মিত ট্রাক চালাচ্ছিলেন।

উলেখ্য, গত ১৬ জুলাই দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার জাহাংগীর আলম তার আট মাসের অন্তঃসত্বা স্ত্রী ও তার এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে রাস্তা পারাপারের জন্য মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ ময়মনসিংহগামী একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে চাপা দেয় তাদের । ঘটনাস্থলেই নিহত হন মো. জাহাংগীর আলম (৩৫), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না বেগম (২৬) এবং তার ৩ বছর বয়সী কন্যা সন্তান সানজিদা আক্তার। এসময় রত্নার উপর দিয়ে ট্রাক চলে যাওয়ায় চাকার চাপে তার গর্ভে থাকা কন্যা সন্তান অলৌকিকভাবে ভূমিষ্ঠ হয়। বর্তমানে শিশুটি ময়মনসিংহের লাবীব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুর ডান হাতের কনুই এর উপরের হাড়ে ফ্র্যাকচার ও কলার বোন ভেঙ্গে গিয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় নিহত জাহাংগীর আলমের পিতা বাদী হয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com