মুন্সীগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৫০

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুরোনো ফেরিঘাট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুরোনো ফেরিঘাট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।ছবি : কালবেলা

মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুরে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি।

আজ বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার পর থেকে এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় আটটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিনহাজ-উল-ইসলাম, সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামান, ইন্সপেক্টর অপারেশন মোজাম্মেল হক, এসআই কাজল দাস, এসআই মাঈনউদ্দিন, এসআই সুকান্ত বাউল, এসআই আমিনুল হাসান, এসআই অজিত, এসআই ইলিয়াস, কনস্টেবল রায়হান, দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, দৈনিক দিনকালের জেলা প্রতিনিধি গোলজার হোসেন। এদের মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যরা।
সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যরা।ছবি : কালবেলা

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদর উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ শহর ও মিরকাদিম পৌর বিএনপি শহরের মুক্তারপুর এলাকার পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। দুপুর আড়াইটা থেকে মুক্তারপুর এলাকার আশপাশে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। পুলিশও অবস্থান নেয় আগে থেকেই। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় আসতে শুরু করে। এ সময় পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিএনপি নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে চারদিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় জাহাঙ্গীর নামের একজন গুলিবিদ্ধ হন।

সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামান বলেন, ‘অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সদর উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ শহর ও মিরকাদিম পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হচ্ছিল। এ সময় দু’দিক থেকে পৃথক দুটি মিছিল আসছিল। হঠাৎ পুলিশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। মিছিলের ব্যানার কেড়ে নেয় ও লাঠিচার্জ করে। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়।’

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, মিরকাদিম পৌর বিএনপির কর্মী মোহাম্মদ শাওন এবং সদর উপজেলা যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com