মুন্সীগঞ্জে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত শাওন মারা গেছেন

ঢামেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন শাওন।
ঢামেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন শাওন।ছবি : সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত যুবদল নেতা শহীদুল ইসলাম শাওন (২৭) মারা গেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, শাওন মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌর যুবদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

ঢামেক হাসপাতালের সামনে যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সাংবাদিকদের বলেন, শাওনের জানাজা শুক্রবার বাদ জুমা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন শাওন হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে যুবদল।

শাওনের স্ত্রী ও ১ বছর বয়সি একটি ছেলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই সোহাগ।

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জমান রতন বলেছেন, শাওনের সন্তানসহ তার পুরো পরিবারের দায়িত্ব দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিচ্ছেন। শাওনের বাবা সোহরাব হোসেনকে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

শাওনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢামেকে মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির নেতারা।
শাওনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢামেকে মির্জা আব্বাসসহ বিএনপির নেতারা। ছবি : কালবেলা

মৃত্যুর খবর শুনে ঢামেকে বিএনপির নেতারা

শাওনের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে ছুটে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ ছাড়াও হাসপাতালে যান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্না, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ বিপুল নেতাকর্মী।

বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও বি‌ক্ষোভ মি‌ছিল করেন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও বি‌ক্ষোভ মি‌ছিল করেন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।ছবি : কালবেলা

বিএনপির বিক্ষোভ

শাওনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টনে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ও বি‌ক্ষোভ মি‌ছিল বের করেন।

মিছিলটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বক্তব্য দেন।

মিছিলে অংশ নেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াছিন আলী, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদলের সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ কয়েকশ নেতাকর্মী।

এর আগে এ সংঘর্ষের ঘটনায় শাওনসহ গুরুতর আহত তিনজনকে গতকাল বুধবার রাতে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় শাওনকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক। এ ছাড়া জাহাঙ্গীর নামের যুবদলের আরেকজনকে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ছাত্রদলের অপর একজনের অবস্থা মোটামুটি ভালো।

ঢামেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন শাওন।
মুন্সীগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলা, গ্রেপ্তার ২৬

ডা. রফিকুল ইসলাম গতকাল জানিয়েছিলেন, শাওনের মাথার আঘাত গুরুতর ছিল। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ছাড়া টিয়ারশেলের জন্য জাহাঙ্গীরের নাক-মুখ পুরো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পারায় তাকে কৃত্রিম উপায়ে বিকল্পপথে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় মুক্তারপুর পুরোনো ফেরিঘাট এলাকা। এই ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com