বোমা পুতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা, জঙ্গি নেতা গ্রেপ্তার

রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হাই।
গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হাই।ছবি: কালবেলা

বহুল আলোচিত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টাকারী জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি’র প্রতিষ্ঠাতা আমীর মুফতি আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার (২৫ মে) রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, বুধবার রাতে র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুতে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও নি রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং একাধিক মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আমীর মুফতি আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, যার মধ্যে ২টি মৃত্যুদণ্ড ও ২টি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। মোট ১৩টি মামলা রয়েছে তার নামে।

মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় জনসভার কাছেই ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুতে রাখে জঙ্গি মুফতি আব্দুল হাইসহ তার অপর সদস্যরা। এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ৩০ আগস্ট গ্রেপ্তারকৃত মুফতি আব্দুল হাইসহ ১০ জন মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

এরপর গত ১৪ এপ্রিল ২০০১ সালে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় প্রকাশ্য দিবালোকে জঙ্গিদের অতর্কিত বোমা হামলায় ১০ জন মৃত্যুবরণ করেন এবং আরও অনেকে আহত হন। এই ঘটনায় রমনা থানায় একটি হত্যা মামলাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়। হত্যা মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৪ সালের ২৩ জুন আদালত ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে একটি জনসভা চলাকালে প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেড হামলা হয়। সেই গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং প্রায় তিন শতাধিক গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনায় ঢাকার মতিঝিল থানায় একটি হত্যা ও হত্যা চেষ্টার সহযোগিতাসহ ২টি পৃথক মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১০ অক্টোবর ২০১৮ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যাল ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মুফতি আব্দুল হাইসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মুফতি আব্দুল হাই ওই গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। একই ঘটনায় ঢাকার মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি পৃথক মামলা দায়ের হয়। মুফতি আব্দুল হাই বিস্ফোরক দ্রব্য আইনেও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

এছাড়াও ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরে বৈদ্যের বাজারে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা চালিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচ জনকে হত্যা করে এবং কমপক্ষে শতাধিক লোককে আহত করে। সেই হত্যা ও বিষ্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল হাই চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি এবং তার বিরুদ্ধে ২টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলায় সর্বমোট ৭টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

র‍্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, বিভিন্ন জঙ্গিবাদী ঘটনার সাথে হরকাতুল জিহাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে ২০০৬ সালের পর মুফতি আব্দুল হাই আত্মগোপনে চলে যায়। তার পরিবার তখনও নারায়ণগঞ্জেই বসবাস করত কিন্তু সে কুমিল্লা জেলার গৌরিপুরে তার শ্বশুরবাড়ী এলাকায় আত্মগোপন করে। গৌরিপুর বাজারে তার শ্বশুরের কেরোসিন ও সয়াবিন তেলের ডিলারশিপের ব্যবসা ছিল। সে সারা দিন ব্যবসা দেখাশুনা করে ‌ওই দোকানেই রাত কাটাত।

তিনি আরও জানান, ২০০৯ সাল পর্যন্ত সে তার শ্বশুর বাড়ির এলাকায় এভাবেই আত্মগোপনে ছিল। গৌরিপুরে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় সে মাঝেমধ্যে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন পূর্বক নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করত। পরবর্তীতে কৌশলে সে তার ও তার পরিবারের সকলের ঠিকানা পরিবর্তন করে নারায়ণগঞ্জে ভোটার হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। স্থানীয় এলাকাবাসী যেন তার পরিচয় জানতে না পারে সে জন্য ঘর থেকে খুব কম বের হত।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তার বর্তমান ঠিকানার বাসাটি এলাকার লোকজনের কাছে তার বড় ছেলের বাসা হিসেবেই পরিচিতি করায়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com