প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।ছবি : কালবেলা

শরতের কাশফুল, ঢাকের বাদ্য আর প্রতিমা তৈরিতে কারিগরদের ব্যস্ততা জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। ১ অক্টোবর মহাষষ্ঠির মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলার ৭৯টি মণ্ডপে দিন-রাত প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।

এসব প্রতিমায় এখন শিল্পীদের তুলির শেষ আঁচড় চলছে। ১ অক্টোবর থেকে পূজা শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

আয়োজকরা বলছেন, এবারে দুর্গা মায়ের আগমন ঘটবে গজে আর যাবেন দোলায় চড়ে—সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলায় ভরে যাবে দেশ আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও রোগমুক্তির আশায় অন্যরকম আনন্দে ভাসছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।ছবি : কালবেলা

দেবীদুর্গা অসুর দমনের শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন। দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালনের জন্যই ১০ হাতে দেবী দুর্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেছিলেন। এরই ধারাহিকতায় হিন্দু সম্প‍্রদায়ের মানুষ প্রতি বছর শারদীয় উৎসব হিসেবে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছেন।

কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কাদামাটি, বাঁশ, খড় ও সুতা দিয়ে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। বিভিন্ন মন্দিরে একেকজন কারিগর দুর্গাপূজা শুরুর ১০ থেকে ১৫ দিন আগে থেকেই প্রতিমা তৈরিতে সময় নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কারিগররা জেলার বিভিন্ন মন্দিরে শুরু করেন এসব প্রতিমা বানানোর কাজ।

অধিকাংশ পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরির প্রধান কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আগামী দুএক দিনের মধ্যে কারিগররা প্রতিমা রংয়ের কাজ শুরু করবেন।

এবার জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৭৯টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। অপরদিকে পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ঘরে বাইরে পূজাকে ঘিরে চলছে ব্যস্ততা। জামা-কাপড় তৈরি, কেনাকাটায় সরগরম শহরের বিপণিবিতানগুলো। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে চারপাশে চলছে এখন উৎসবের আমেজ।

পৌর শহরের কালিবাড়ী মন্দিরে আসা প্রতিমা শিল্পী সুদেব জানান, বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত আছেন তারা। বাপ-দাদার কাছ থেকে শেখা কাদামাটি আর খড় দিয়ে কীভাবে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হয়। বছরের এই সময়ে কাজের চাপ বেশি তাই রাত-দিন পরিশ্রম করে দুর্গার প্রতিমা তৈরি করছেন তারা।

শ্রীশ্রী শ্যামসুন্দর জিউর আখড়ায় আসা শিল্পী মতিলাল আক্ষেপ করে জানান, ‘এক সেট প্রতিমা তৈরি করতে তাদের সময় লাগে এক থেকে দুই সপ্তাহ। প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল কিংবা রসদ আগে যে দামে কেনা হতো এখন তা দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়। অথচ প্রতিমা তৈরির মজুরি আগের দামেই নিতে হচ্ছে। ’

সমসেরাবাদ পূজা মণ্ডপে আসা প্রতিমা শিল্পী কিশোর কুমার জানান, ‘মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে মণ্ডপ কমিটিকে জানালে কমিটির লোকজন তেমন আমলে নেয় না। কমিটির নেতারা পূজার কালেকশনের বরাত দিয়ে জানিয়ে দেয়, কালেকশন বেশি হলে মজুরি বাড়িয়ে দেওয়া হবে। নইলে না।’

প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। ছবি : কালবেলা

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ লক্ষ্মীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেবনাথ বলেন, মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা বিতরণ করা হয়েছে। জেলায় বরাবরই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন হয়। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, ‘দুর্গোৎসব সফল করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আয়োজকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। পূজায় নিরাপত্তায় প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক ও মণ্ডপভিত্তিক টহল টিম গঠন করা হয়েছে।’

শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান এসপি।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com