পেনাল্টি শট নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মামুন খুন!

গ্রেপ্তারকৃত মো. মোতালেব ওরফে খোকন।
গ্রেপ্তারকৃত মো. মোতালেব ওরফে খোকন।ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় ফুটবল খেলায় পেনাল্টি শট নিয়ে দ্বন্দ্বে জেরে যুবককে হত্যার ঘটনায় মো. মোতালেব ওরফে খোকন (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। বুধবার (২০ জুলাই) ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, নিহত মো. মামুন ও মোতালেব একই গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে বয়সের কিছুটা ব্যবধান থাকলেও তারা প্রায় একই সঙ্গে চলাফেরা করতো। গত ১৬ জুলাই ঈদ উপলক্ষে স্থানীয় যুব সংঘের আয়োজনে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের যুবকরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে খেলায় অংশগ্রহণ করে। এসময় মোতালেব ও মামুনের মামাতো ভাই নাহিদ তারা দু’জন একই দলের খেলোয়ার ছিল। তাদের টিম ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় খেলা শেষ হওয়ার প্রায় এক মিনিট আগে ফাউল হতে একটা পেনাল্টি শট পায় তারা। দলের হয়ে একমাত্র গোলটি স্ট্রাইকার হিসেবে নাহিদ করায় ম্যাচ সমতা আনতে পেনাল্টি শটও সে নিবে বলে দলের অধিনায়ক দেলোয়ার মতামত দেয়।

কিন্তু আসামি মোতালেব নিজেই পেনাল্টি শট নিবে বলে তর্ক করতে থাকে। তখন স্ট্রাইকার নাহিদ পেনাল্টি শট করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলে খোকন তাকে মাঠের মধ্যে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারধর করতে থাকে। তখন মো. মামুন তার মামাতো ভাইকে আঘাত করার তীব্র প্রতিবাদ করে। পরবর্তীতে সকলের প্রচেষ্টায় বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়। খেলার বিষয়ে মামুনের সঙ্গে আসামির সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে মামুনকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য খোকন পরিকল্পনা করে।

এদিন রাত সাড়ে ৯ টায় এলাকার পিন্টু মিয়ার দোকানে নাহিদের ফুফাতো ভাই মামুনকে একা পেয়ে আসামি মোতালেব ও তার দলবল অতর্কিত হামলা চালায়। হত্যার উদ্দেশ্যে মামুনের মাথা লক্ষ্য করে ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন লোহার রড, জিআই পাইপ দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে তারা।

এ সময় মামুনের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত আহত অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে প্রথমে গাবতলীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, হত্যার ঘটনায় মোতালেবকে প্রধান আসামি করে বগুড়া জেলার গাবতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নিহত মামুনের মা। এরপর অভিযুক্তকে ধরতে ছায়া তদন্তে নামে সিআইডি। সেই মামলাতেই মোতালেবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com