পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ভাঙচুর, দায়িত্ব হারালেন শিক্ষা কর্মকর্তা

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ।পুরোনো ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্তৃক পরীক্ষার্থী ও কক্ষ পরিদর্শকের মোবাইল ফোন ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ওই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুল্লাহকে।

আজ মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে ঘটনাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক জানান, পরীক্ষা চলাকালে তার কেন্দ্রে দুই কক্ষ পরিদর্শকসহ পরীক্ষার্থীদের চারটি অ্যান্ড্রয়েড ও ১৪টি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করে ভেঙে ফেলার ঘটনায় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুল্লাহকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সেই কেন্দ্রে ওই কর্মকর্তার বদলে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসিমুল বারী। এদিকে বিষয়টি জানতে মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলাউদ্দীন আল আজাদ। তিনি ভাঙা মোবাইল ফোনগুলো দেখেন এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত শোনেন। পরে ঘটনাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ।
ফোন নিয়ে কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী, কেড়ে নিয়ে ভাঙলেন শিক্ষা কর্মকর্তা

কেন্দ্র সচিব আরও জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তারা মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশপাশে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষকরা।

এদিকে শিক্ষা কর্মকর্তা কর্তৃক মোবাইল ফোন ভাঙার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, শিক্ষা কর্মকর্তা ঠিক কাজ করেছেন, অনেকেই বলছেন ঠিক করেননি। তবে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ বলেন, 'রাগের মাথায় ফোনগুলো ধ্বংস করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বসার কথা হয়েছে।'

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, ঘটনা শুনে তিনি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। মোবাইল ফোন ভাঙার কাজটি ঠিক হয়নি। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভুল করেছেন। এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে দুই কক্ষ পরিদর্শকসহ পরীক্ষার্থীর কাছে থেকে ২০ থেকে ২৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করে কেন্দ্র সচিবের অফিস কক্ষে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com