মেয়েদের সাফল্যে আনন্দে ভাসছে কলসিন্দুর

ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের স্কুল মাঠে অনুশীলন চলছে।
ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের স্কুল মাঠে অনুশীলন চলছে।ছবি : কালবেলা

নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইতিহাস রচনা করে বাংলার বাঘিনীরা। এই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের নাম। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা নারী ফুটবলারদের আট সদস্যের বাড়িই ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামে। অজপাড়া গায়ে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলকন্যাদের সাফল্যে গর্বিত তাদের পরিবার, এলাকাবাসী ও তার শিক্ষকরাও।

ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের স্কুল মাঠে অনুশীলন চলছে।
শপিং আড্ডা নাচ-গানে সাবিনাদের দিন পার

সানজিদা-মারিয়া মান্ডাদের হাত ধরেই ২০১১ সালে নতুন এক গল্পের শুরু। এরপর একের পর এক লেখা হতে থাকে সফলতার গল্প। নারী ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার কারণে কলসিন্দুর গ্রামের নাম-ডাক ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশে।

সোমবার নেপালের সঙ্গে জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া প্রথম গোলটি করে এই কলসিন্দুরের মেয়ে শামসুন্নাহার জুনিয়র। তার গোলেই জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে খেলোয়াড়সহ গোটা বাংলাদেশ। তাই গর্বিত শামসুন্নাহার জুনিয়রের বাবা নেকবর আলী।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে নেপাল খেলতে গিয়েছে। তাই তার খেলা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। ফাইনালের দিন অনেক দোয়া করেছি গোটা দলের জন্য, আমার মেয়ের জন্য। আর যখন প্রথম গোলটা আমার মেয়েই করল তখন তো আমাদের আনন্দের শেষ ছিল না। মেয়েরা অনেকদূর এগিয়ে যাক।’

দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সানজিদার বাবা লিয়াকত আলী বলেন, ‘দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে মেয়েগুলো। কনসিন্দুরের নাম উজ্জ্বল করেছে। এটা ভেবে আরও ভালো লাগে যে, যখন খেলা শুরু করেছিল তখন অনেকেই টিটকারি-টিপ্পনী কাটল। বলত, মেয়েরাও কি ফুটবল খেলে? আজ এই মেয়েরাও দেখিয়ে দিয়েছে। এখন টিটকারি করা মানুষরাই তাদের জয়ে আনন্দ উল্লাস করে। আর বাবা হিসেবে আমার বুকটা গর্বে ভরে যায়।’

ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের স্কুল মাঠে অনুশীলন চলছে।
ছাদ খোলা বাসেই সাবিনাদের সংবর্ধনা!
এই কলসিন্দুর গ্রামের আরেক খেলোয়াড় মারিয়া মান্ডার মেঝো বোন পাপিয়া মান্ডা বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে টিভিতে আমার বোনদের খেলা দেখেছি। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এতে আমাদের গ্রামের সবাই আনন্দিত-উচ্ছ্বসিত।’

কলসিন্দুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিনতী রানি শীল জানান, ‘শুরুতে প্রধান সমস্যা ছিল 'লজ্জা'। এই সমস্যার সমাধানে সময় লেগেছে। কিন্তু আমার পেরেছি লোকলজ্জার ভয় দূর করে খেলার পোশাকে মাঠে মেয়েদের নামাতে। এখন আমাদের গর্ব হয়। আমি একটি ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরেছি।’

কলসিন্দুর মহিলা ফুটবল দলের কোচ জুয়েল মিয়া বলেন, ‘আমরা আজ আনন্দে আত্মহারা। এত বড় একটা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া একটা গর্বের বিষয়। আর এই দলের আট সদস্যই আমাদের এই কলসিন্দুরের। আমাদের গড়ে তুলা খেলোয়াড়টা আজ এমন সফলতা অর্জন করছে, এতে এত পরিমাণ আনন্দিত হয়েছি যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এই স্বপ্নটাই আমরা দেখেছিলাম। এখন আমাদের স্বপ্ন বিশ্বকাপ জয়।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com