ডিফেন্ডার মাসুরার সামনে এবার মাথা গোঁজার ঠাঁই রক্ষার চ্যালেঞ্জ

ভেঙে ফেলা হতে পারে ডিফেন্ডার মাসুরাদের এই বাড়ি।
ভেঙে ফেলা হতে পারে ডিফেন্ডার মাসুরাদের এই বাড়ি। ছবি : কালবেলা

নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ইতিহাস গড়া এ জয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেশবাসী। একই সঙ্গে নারী ফুটবলারদের বাড়িতেও বইছে আনন্দের বন্যা। কিন্তু বসতঘর উচ্ছেদের উৎকণ্ঠায় রয়েছে ডিফেন্ডার মাসুরার পরিবার। তাদের বাড়িটি সরকারি জায়গায় পড়ায় কয়েকদিনের মধ্যে উচ্ছেদ করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এরই মধ্যে তাদের বাড়িটি চিহ্নিত করে ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে বেতনা নদীর তীরে বিনেরপোতা এলাকায় মাসুরাদের বাড়ি। সেখানে তার মা-বাবা ও দুই বোন বসবাস করেন।

আজ বুধবার বিকেলে তাদের বাড়িতে গিয়ে মাসুরার বাবা রজব আলী ও মা ফাতেমা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় দেখা যায়, তাদের ঘরের পেছনের দেয়ালে তিনটি ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

মাসুরার বাবা রজব আলী বলেন, ‘২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে আমার মেয়ের একমাত্র গোলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। আমাদের থাকার জায়গা না থাকার বিষয়টি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। তখন তিনি আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আমাকে যে জমি দেওয়া হয় সেখানে ১৫ ফুট পানি জমে ছিল। বিভিন্ন দপ্তরে বহুদিন ছোটাছুটির পর সহায়তা পাইনি। বাধ্য হয়ে মাসুরার বঙ্গমাতা গোল্ড কাপের তিন লাখ টাকা দিয়ে মাটি ভরাট করে বাড়ি তৈরি করি।’

রজব আলী বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে বাড়ি বানিয়ে এখন আমরা প্রায় নিঃস্ব। আমার শরীরটাও ভালো না। কাজ করতে পারি না। মেয়ের খেলার টাকায় সংসার চলে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবে। সে হিসেবে আমাদের বাড়িতে ক্রস চিহ্ন দিয়ে গেছে। সরকারিভাবে পাওয়া আট শতক জমিতে ঘর করেছি। এটা ভেঙে দিলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় থাকব?’

এ বিষয়ে কথা বলতে দুইবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অফিসে গিয়েছিলেন মাসুরার বাবা। কিন্তু তার সাক্ষাৎ মেলেনি। পরে ইউএনওর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে মাসুরা। তখন ইউএনও বলেন, ‘সড়ক বিভাগের সীমানার মধ্যে আপনার বাড়ি পড়লে আমাদের করার কিছু নেই।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘মাসুরাদের ঘরে ক্রস চিহ্ন দেওয়ার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি।’

মাসুরার মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘মেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরবে। দেশের মানুষ আনন্দ করছে। কিন্তু আমরা তো উৎকণ্ঠায় আছি। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সরকারি জায়গায় থাকা সব স্থাপনা উচ্ছেদ করবে। আমাদের ঘরের পেছনে ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। ঘর ভেঙে দিলে থাকব কোথায়?’

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘সরকারিভাবে জমি পাওয়ার প্রমাণপত্র নিয়ে উচ্ছেদের দিন উপস্থিত থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেবেন। ভুল করেও ক্রস দিতে পারে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com