চলতি মাসেই রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের উদ্বোধন

নবনির্মিত রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল।
নবনির্মিত রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ছবি : কালবেলা

রং-রসে ভরপুর, তার নাম রংপুর—এই কথাটির যেন সার্থক রূপ দেওয়া হয়েছে নবনির্মিত রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে। আধুনিক সব সুবিধাসংবলিত এই বাস টার্মিনাল এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। চলছে রং ও বাউন্ডারিতে আলোকসজ্জার কাজ। ভবনের অসমাপ্ত কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। সব ঠিকঠাক থাকলে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত বাস টার্মিনালটি উদ্বোধন হবে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের এই টার্মিনাল উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাইকা ও জিওবির অর্থায়নে ২৫ কোটি ৮১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি শুরু হলেও শেষ হচ্ছে প্রায় ৩১ কোটি টাকায়। ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর সর্বাধুনিক রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২৯ হাজার ৬৪৫ বর্গফুট আয়তনের দ্বিতল নবনির্মিত রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের মূল ভবনে থাকছে ওয়ার্কশপ, ড্রাইভার ও কন্ডাক্টর রিফ্রেশমেন্ট এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা।

রয়েছে নিচতলায় ১৪টি টিকিট কাউন্টার, তিনটি এটিএম বুথ, নারীদের নামাজঘর, একটি ডে-কেয়ার সেন্টার, ছয়টি খাবারের দোকান, একটি ওষুধের দোকান, দুটি পাবলিক টয়লেট, যাত্রীদের বসার স্থান ও একটি লাগেজ এরিয়া। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় থাকছে একটি অত্যাধুনিক মানসম্মত খাবার হোটেল, একটি শিশুদের খেলার রুম, সাতটি দোকান, অত্যাধুনিক ট্রাফিক বিভাগ, কন্ট্রোল রুম, টেকনিক্যাল বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ, অত্যাধুনিক সভাকক্ষ, একটি পাবলিক টয়লেট, ভিআইপি লাউঞ্জ ও ভিআইপি রুম।

নবনির্মিত রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল।
বনানীতে সালমান খানের পোশাক আউটলেট ‘বিয়িং হিউম্যান’র উদ্বোধন

১৯৮১ সালে রংপুর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় এই বাস টার্মিনালটি নির্মিত হয়। এতে অর্থায়ন করেছিল রাজশাহী বিভাগ উন্নয়ন কমিটি। যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও রংপুর জেলার এই বাস টার্মিনালটিতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন হয়নি। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাজল আর খানাখন্দে ভরা টার্মিনালটি পরিবহন-সংশ্লিষ্টদের জন্য ছিল চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তির কারণ। তখন যাত্রী ওঠানামা ছিল কঠিন। বাধ্য হয়ে সড়ক দখলে রাখত পরিবহনগুলো।

রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দেশের প্রায় সব জেলায় গাড়ি চলাচল করে থাকে। সেই সঙ্গে টার্মিনালটি উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বৃহৎ বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত। টার্মিনালটি মহাসড়ক-ঘেঁষা হওয়ায় প্রায় সময় সড়কে যানজট লেগে থাকত এবং দুর্ঘটনা ঘটত।

নবনির্মিত রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল।
নবনির্মিত রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। ছবি : কালবেলা

নবনির্মিত সর্বাধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের ফলে মহাসড়কে যানজট নিরসন হওয়ার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাসচালক আবদুর রহিম জানান, আগে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি ছিল অগোছালো এবং অল্প জায়গা নিয়ে; বর্তমানে এর পরিধি বেড়েছে অনেক। গাড়ি রাখার সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি খানাখন্দ না থাকায় টার্মিনাল এলাকায় কাদাপানি জমে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

টিকিট মাস্টার জিলহাজ হোসেন জানান, বাসের টিকিট কাটতে আগে যাত্রীদের দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না। ঝড়বৃষ্টিতে কোনোমতে দোকানের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। কিন্তু আধুনিক এই টার্মিনাল হওয়ায় সেই দুর্ভোগে আর পড়তে হবে না।

রংপুর থেকে রাজশাহীগামী এক যাত্রী জানান, খুব সুন্দর লাগছে রংপুর বাস টার্মিনালটি। দৃষ্টিনন্দন এই টার্মিনালে কোনো গাড়ির যানজট নেই। দীর্ঘ সময় পর সেসব অসুবিধা দূর করতে ২০১৮ সালে শুরু হয় আধুনিক কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ। এখন দৃশ্যমান দৃষ্টিনন্দন এই টার্মিনালে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন যাত্রীসহ পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা।

নতুন করে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমরা জটিলতা ও ঝামেলা অতিক্রম করে এই বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ করেছি। আধুনিক এই বাস টার্মিনালকে ঘিরে রংপুরের পরিচিতি আরও বাড়বে।
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মেয়র, রংপুর সিটি করপোরেশন।

রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের উদ্বোধনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, মহাসড়কে যানজট দূরীকরণসহ যাত্রীদের বিড়ম্বনা দূর করে সেবার মান উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে আধুনিক সব সুবিধা নিশ্চিত করতে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। দৃষ্টিনন্দন ও সর্বাধুনিক রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে উদ্বোধন হবে বলে আশা করছেন। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে দুবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মেয়র আরও বলেন, ‘এখানে নতুন করে টার্মিনাল নির্মাণ করার বিষয়টি খুব সহজ ছিল না। অনেক ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আগের ৭৪টি কন্ট্রাক্টশন ভেঙে ফেলে নতুন করে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমরা জটিলতা ও ঝামেলা অতিক্রম করে এই বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ করেছি। অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি এখানে দোতলায় উঠতে ইলেকট্রিক সিঁড়ি রয়েছে। আধুনিক এই বাস টার্মিনাল ঘিরে রংপুরের পরিচিতি আরও বাড়বে। এ জন্য বাস টার্মিনালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে মোটর মালিক-শ্রমিক, প্রশাসনসহ যাত্রীদের কাছে সহযোগিতা চাই।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com