খুঁটিতে বেঁধে মারধর, কারাগারে ২

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সবুজ।
দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সবুজ।ছবি : কালবেলা

দিনাজপুরে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

ওই দুজন হলেন দিনাজপুর পৌর এলাকার খামার ঝাড়বাড়ী কসবা গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী মুজিবুর রহমান এবং একই গ্রামের ৩৬ বছর বয়সী শাহজাহান আলম।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মাওলা শাহ কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার দিনাজপুর সদরের কসবা আলমের মোড়ে ৪০ বছর বয়সী ট্রাক্টর চালক মো. সবুজকে মোবাইল চুরির অপরাধে দোকানের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার সবুজের মামি লাকি বেগম কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

সবুজকে নির্যাতনের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সবুজকে নির্যাতনের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।ছবি : কালবেলা

মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় মজিবর রহমান, জুয়েল, শাহজাহান ও অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজন সবুজকে পুলহাট ট্রাক দালাল অফিস থেকে কসবা আলমের মোড়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে দোকানের খুঁটিতে বেঁধে রড, লাঠি, হাতুড়ি, বৈদ্যুতিক তার দিয়ে হাত-পায়ে মেরে জখম করা হয়। সেইসঙ্গে মারধরের ঘটনা ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বজনরা সবুজকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করেছেন।

আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এই ছেলে। তার চিকিৎসা করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। দুদিন ধরে ছেলেটা হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে কাতরাচ্ছে।
সবুজের মা সুফিয়া বেগম

সবুজ কালবেলাকে বলেন, ‘তারা আমাকে এক মোবাইল চোরকে ধরিয়ে দিতে বলে। আমি চোর ধরতে ব্যর্থ হলে দোকানঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে আমাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।’

সবুজের মা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এই ছেলে। তার চিকিৎসা করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। দুদিন ধরে ছেলেটা হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে কাতরাচ্ছে। টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছি না। যারা বিনা অপরাধে আমার ছেলেকে এমনভাবে মেরেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীরুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার পরপরই বুধবার রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। সবাইকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com