অযত্নে পড়ে আছে ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ

ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ।
ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ।ছবি : কালবেলা

টাঙ্গাইলে রয়েছে ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ। এটি জেলার দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। গ্রামের সঙ্গে মিল রেখে মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে আতিয়া মসজিদ। তবে অবহেলা ও অযত্নে মসজিদটি আজ ধ্বংস হওয়ার পথে। ফলে দ্রুত এই মসজিদ সংস্করের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মসজিদটি ভেতরে যেমন

মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪২ ফুট, প্রস্থ ৩২ ফুট এবং উচ্চতা ৪৪ ফুট। একটি বড় আকৃতির গম্বুজসহ মোট চারটি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের দেয়াল আট থেকে সাড়ে আট ফুট প্রশস্ত। মসজিদটির কেবলা-কোটা ও বারান্দাসহ মোট পরিমাণ ১২ মিটার। মসজিদের দেয়াল ২ দশমিক ২২ মিটার প্রশস্ত।

ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ।
ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ।ছবি : কালবেলা

নির্মাণের পেছনের গল্প

১৬১০ সালে বাইজিদ খান পন্নীর ছেলে মুসলিম জমিদার সাইদ খান পন্নী আতিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন। তিনি মসজিদের পশ্চিম দিকে একটি বড় পানির ট্যাঙ্ক খনন করেছিলেন। স্থানীয়রা বলেন, সাধক শাহ বাবা কাশ্মীরির সম্মানে এই আতিয়া মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ১৮০০ সালে প্রচণ্ড ভূমিকম্পে মসজিদটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১৮৩৭ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া ১৯০৯ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ খান পন্নী ও দেলদুয়ারের জমিদার আবু আহমেদ গজনবী খান যৌথভাবে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন।

ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ।
ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ।ছবি : কালবেলা

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ ইকবাল হোসেন কালবেলাকে বলেন, বিখ্যাত এই মসজিদটিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ছোট ছেলেমেয়েদের মক্তবের ক্লাস করানো হয়। শুক্রবার বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন এসে এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন। তখন তারা জায়গা দিতে পারেন না। মসজিদের পাশে তাঁবু টানিয়ে নামাজ পড়ার জায়গা করতে হয়।

অতিদ্রুত মসজিদটি সংস্কার করে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ঐতিহ্যবাহী আতিয়া জামে মসজিদটি ৪০০ বছরের পুরোনো। বর্তমানে এটি চুনকামের অভাবে, অবহেলা ও অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটির সংস্কার করা খুবই জরুরি। মসজিদটির বিষয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগে যোগাযোগ করে অতিদ্রুত সংস্কারের জন্য দাবি জানানো হবে।
প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান মারুফ বলেন, চেয়ারম্যান, দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগে যাওয়ার পর থেকে তেমন কোনো সংস্কারের কাজ করা হয়নি। বিভিন্ন অংশে শ্যাওলা জমে কালো হয়ে গেছে। দেয়ালের কিছু ইট-বালুও খসে পড়ছে। দ্রুত মসজিদটির সংস্কারকাজ করা দরকার। এ ছাড়া মসজিদটি দেখার জন্য একজন কেয়ারটেকার দিয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ। তবে একজন ইমাম ও মুয়াজ্জিন রেখেছেন স্থানীয়রা, যার ব্যয় বহন করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ জন্য মসজিদটির সংস্কারসহ ইমাম ও মুয়াজ্জিন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান মারুফ বলেন, ‘আতিয়া গ্রামে ৪০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদটি বর্তমানে চুনকামের অভাব, অবহেলা ও অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটির সংস্কার করা খুবই জরুরি। মসজিদটির বিষয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগে যোগাযোগ করে অতিদ্রুত সংস্কারের দাবি জানাব। এ ছাড়া আমাদের উপজেলা পরিষদ থেকেও  কাজ করার চেষ্টা করব।’

ঐতিহাসিক আতিয়া জামে মসজিদ।
অযত্নে নষ্ট হচ্ছে রতনপুরের জমিদার বাড়ি

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com