যুগপৎ আন্দোলন : বিএনপির পরীক্ষা এবার তৃণমূলে

বিএনপি
বিএনপি

বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশসহ সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে খুশি দলটির হাইকমান্ড। এটি তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার ফল বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। এমন প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি পালনে তৃণমূলকে স্বনির্ভর করতে চান তারা। সে কারণে তৃণমূলে কর্মসূচি পালনে কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে সীমিত করে আনছে দলটি। নীতিনির্ধারকরা চাচ্ছেন জেলা নেতারাই এখন জেলায় অনুষ্ঠেয় কর্মসূচি পালন করুক। কেউ কেউ মনে করেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যাওয়ায় তৃণমূল উজ্জীবিত হলেও তাদের প্রটোকল দিতে গিয়ে কখনো কখনো কর্মসূচি পালনে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এদিকে কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্তে কর্মসূচি সফলে নতুন করে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে তৃণমূল। তবে কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবেই দেখছে তৃণমূল। জেলা নেতারা বলছেন, তৃণমূল শক্তিশালী হওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণ ছাড়াও কর্মসূচি পালনে তারা সক্ষম।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কালবেলাকে বলেন, তৃণমূলের কর্মসূচিতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশগ্রহণ করছেন। তবে সব জেলা-মহানগরে তো স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কালবেলাকে বলেন, বিএনপির তৃণমূল এখন অনেক শক্তিশালী। বিভাগীয় গণসমাবেশসহ সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোতে সেটার প্রমাণও তৃণমূল দিয়েছে। মামলা-হামলাসহ সরকারি নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তারা কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা মনে করি, জেলা-মহানগরের নেতারাই এখন এককভাবে কর্মসূচি সফল করতে সক্ষম। আমরাও চাই, তৃণমূল নিজেরাই কর্মসূচি করুক।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেকের মধ্যে এমন মতামতও আছে যে, আমরা (কেন্দ্রীয় নেতারা) যদি তৃণমূলে বেশি যাই, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রটোকল দেওয়া অনেক জায়গায় একটা বার্ডেন হয়ে দাঁড়ায়। তখন মূল প্রোগ্রামের দিকে নেতাকর্মীদের অ্যাটেনশনটা একটু হালকা হয়ে যায়। এজন্য আমরা চাচ্ছি, জেলা-মহানগরের কর্মসূচি ধীরে ধীরে তাদের হাতে ছেড়ে দিতে। সেক্ষেত্রে হয়তো আমরা অবজার্ভ করলাম। তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ কাউকে তৃণমূলে পাঠিয়ে দেখলাম যে পারফরম্যান্স আগের মতো, নাকি ভালো করছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঘুরে দাঁড়াতে সংগঠন পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দেয় বিএনপি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূলে দল ও অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠন প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় গত ২২ আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সারা দেশের উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সভা, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর তৃণমূলে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ‘জানান’ দেয় বিএনপি। এরপর ঢাকায় ১৬ জনসভার পর দেশব্যাপী ১০টি বিভাগীয় গণসমাবেশ করে দলটি। গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে গণসমাবেশের ওই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। সেসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ঘটে। দলটির নেতারা বলছেন, তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার প্রমাণ এটি।

ঢাকার গণসমাবেশ থেকে দশ দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর এবং ঢাকার বাইরে ২৪ ডিসেম্বর গণমিছিল হয়। এরপর ১১ জানুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশে বিভাগীয় শহরে গণঅবস্থান এবং ১৬ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। চতুর্থ কর্মসূচি হিসেবে ২৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে সমাবেশ করবে বিএনপি। ওইদিন দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হবে।

যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি সফলে বিএনপির অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা তৃণমূলে গিয়ে গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন। কিন্তু পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে তৃণমূলে তাদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ১৬ জানুয়ারি বিক্ষোভ মিছিলে প্রতিটি মহানগরে একজন এবং প্রতিটি বিভাগের অধীন বড় জেলায় একজন করে কেন্দ্রীয় নেতা অংশগ্রহণ করেন। আগামীকাল বুধবার জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির ১২ জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেতা ১২ মহানগরে অংশগ্রহণ করবেন। ঢাকায় সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বরিশালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চট্টগ্রামে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রাজশাহীতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গাজীপুরে বরকত উল্লাহ বুলু, কুমিল্লায় মো. শাহজাহান, সিলেটে অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, ময়মনসিংহে শামসুজ্জামান দুদু, রংপুরে আহমেদ আজম খান, ফরিদপুরে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, খুলনায় নিতাই রায় চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রধান অতিথি থাকবেন।

জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু কালবেলাকে বলেন, তৃণমূলে এখন অনেক সাড়া আছে। নেতাকর্মীরা স্বপ্রণোদিত হয়েই কর্মসূচি পালন করে থাকেন। দেখেছি, ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি করতে গিয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার লোক এসেছে। এই যে সাড়াটা আমরা জাগাতে পেরেছি, এ কারণে কর্মসূচিতে তৃণমূল থেকে লোক আসে। যশোরে ২৫ জানুয়ারি যে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে সেখানেও নেতাকর্মীরা অতীতের মতো উৎসাহ নিয়ে আসবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির তৃণমূল এখন অনেক শক্তিশালী। আমরা নিজেরাই এখন কর্মসূচি করতে সক্ষম। কেন্দ্রীয় নেতারা না এলেও তাতে কোনো সমস্যা হবে না। 

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com