আ.লীগের নির্বাচনী প্রচার শুরু হচ্ছে যশোর থেকে

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে যশোর স্টেডিয়ামে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে যশোর স্টেডিয়ামে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। ছবি : কালবেলা

যশোরে জনতার মহাসমুদ্রে আজ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকের এই জনসভার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। সে লক্ষ্যেই যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সব জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ প্রায় ২৭ মাস পর এরকম কোনো জনসমুদ্রে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জনসভায় তিনি যশোরবাসীর জন্য তো বটেই, তৃণমূল আওয়ামী লীগসহ দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে যশোর স্টেডিয়ামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠকে একীভূত করে লাখ লাখ লোকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, করা হয়েছে ব্যাপক প্রচারণা। স্টেডিয়ামে তৈরি করা হয়েছে বিশাল নৌকা আকৃতির মঞ্চ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও বড় পর্দায় সরাসরি দেখানো হবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ।

জনসভাকে সফল করতে কয়েকদিন ধরেই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা যশোরে অবস্থান করে প্রস্তুতি কাজ তদারকি করছেন। সবশেষ গতকাল কয়েক দফা জনসভাস্থল পরিদশন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

মঞ্চ পরিদর্শনে এসে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আশপাশের জেলার কেউ ঘরে থাকবে না, তারা বৃহত্তর যশোরের উন্নয়নে রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কথা শুনতে আসবে।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবারের জনসভা স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো শহর জনসভাস্থলে পরিণত হবে। জনসভায় ১০ লাখ লোকের সমাগম হবে। এই জনসভা থেকে বিএনপি-জামায়াত অপশক্তিকে আমরা জানিয়ে দিতে চাই—এই বাংলাদেশ হলো মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির বাংলাদেশ। সেই গর্জন যশোর থেকে শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে যশোর স্টেডিয়ামে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ।
নেতিবাচক রাজনীতিতে বিএনপির পতন অনিবার্য : কাদের

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, জনসভা মহাসমুদ্রে পরিণত হবে। এই এলাকার মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, নির্বাচনী প্রচারযুদ্ধ শুরু হলো। আওয়ামী লীগ এখন থেকে মাঠে থাকবে। যশোর জেলা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেন। অন্যদিকে বিএনপি সন্ত্রাসের রাজনীতি করে। শেখ হাসিনা উন্নয়নের বিশেষ বার্তা নিয়ে আজ যশোরের জনসভায় যোগ দেবেন। এতে দক্ষিণাঞ্চলে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দুপুরে যশোর শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই মাঠেই জনাকীর্ণ এক ঐতিহাসিক সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৫০ বছর পর একই স্থানে ঐতিহাসিক সে মাঠেই আজ ভাষণ দেবেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন, আওয়ামী লীগ যশোর অঞ্চলে যে পরিমাণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন, এর আগে কোনো সরকারই তা করতে পারেনি। দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরে আওয়ামী লীগই প্রথম ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করেছে দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। প্রধানমন্ত্রীর নামে করা এ পার্কটি এখন পূর্ণমাত্রায় সক্রিয়।

২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়েছে কপোতাক্ষ নদ। ভৈরব নদের ভরাট হয়ে যাওয়া ৯৬ কিলোমিটার খনন করা হচ্ছে ২৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে। কপোতাক্ষ খননের ফলে জলাবদ্ধতা সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সুফল পাচ্ছেন। ৬২ বছরের পুরোনো যশোর বিমানবন্দরকে ৩৩ কোটি টাকা খরচ করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে এ বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে যশোর স্টেডিয়ামে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ।
বৃহস্পতিবার সারা দেশে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

পদ্মা সেতুর কারণে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে রীতিমতো বিপ্লব হতে যাচ্ছে যশোর অঞ্চলে। যশোরের সাথে আন্তঃজেলা সড়কগুলোর প্রায় সবই ছয় লেনের করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যশোর-ঢাকা সরাসরি রেল যোগাযোগ চালুর কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। যশোর জেলা সব ধরনের খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত উৎপাদন করে। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত মোট সবজির অর্ধেকেরও বেশি এবং দেশে উৎপাদিত মোট কাঁচা ফুলের ৭০ শতাংশ যশোরে উৎপাদিত হয়ে থাকে।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভবদহ এলাকায় ৫০৩ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে ইপিজেড। এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় থেকে ভবদহ এলাকার বেশিরভাগ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এই ইপিজেড হলে এ এলাকার ৫ লক্ষাধিক মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমন উপলক্ষে যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমিতে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ভবদহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, যশোর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিককরণ, যশোরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, যশোর বিভাগ ও যশোর সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ বেশ কিছু দাবি উত্থাপিত হবে বলেও নেতারা জানান।

সমাবেশের মঞ্চ তৈরি ও সাজসজ্জা কমিটির আহ্বায়ক জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল মজিদ বলেন, নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা।

বিশাল এই গণজমায়েতের জন্য বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস মিলিয়ে পাঁচ হাজার যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করেছে ট্রাফিক বিভাগ। জনসভার দিন শহরে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। শহরের অংশ হেঁটে সবাইকে চলাচল করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে যশোর স্টেডিয়ামে নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে ‘কুমিল্লা’ নামেই বিভাগ : বুলু

রেলস্টেশনের মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর যশোরের জনসভা উপলক্ষে ২৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় খুলনা থেকে যশোর পর্যন্ত একটি স্পেশাল ট্রেন চলবে। ১০টি বগির এই ট্রেনটি বিকেল ৪টায় আবার যশোর থেকে খুলনায় ফিরে আসবে।

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভয়নগরবাসীর জন্য তিনটি দাবি জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি গতকাল বিকেলে যশোর জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খানের কাছে হস্তান্তর করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক বাবুল এবং সাধারণ সম্পাদক সরদার অলিয়ার রহমান। দাবিগুলো হলো—ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম বাস্তবায়ন, যশোর-খুলনা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত এবং নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় ‘শেখ রাসেল শিশু পার্ক’ নির্মাণ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com