অনুমতি না দিলেও নয়াপল্টনে গণসমাবেশ করব : গয়েশ্বর

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।ছবি : কালবেলা

অনুমতি দেওয়া না হলেও আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণসমাবেশ হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর এ কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আমরা অনুমতি চেয়েছি। সেখানেই আমরা সমাবেশ করব। তারা (সরকার) যদি অপারগ হয়, তাহলেও করব। অনুমতি দিলেও করব, না দিলেও করব। অনুমতির অপেক্ষা করব না। মনে রাখতে হবে, এ দেশ আমাদের সবার।’

‘প্রতি ওয়ার্ডে পাহারা দেওয়া হবে’—আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন মন্তব্যে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সাতটি গণসমাবেশ করেছি। আওয়ামী লীগ বলবে কেন, সব জায়গায় তারা সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন দিয়ে চেষ্টা করেছে, গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ করে চেষ্টা করেছে। তারা তো কোনো পথ বাকি রাখেনি, নতুন কোনো পথ খোলাও রাখেনি। সুতরাং ঢাকার গণসমাবেশে যে এটি করবে, তা আমরা স্বাভাবিক মনে করছি। রাতারাতি এরা  ভালো হয়ে যাবে, তা আমরা আশাও করি না। কিন্তু আমরা সরকারের ফাঁদে পা দেব না। আমরা সংঘাত এড়িয়েই গণসমাবেশে আসব।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
১০ তারিখের সমাবেশ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা সরকারের নেই : গয়েশ্বর

ঢাকার গণসমাবেশ থেকে সরকার পতনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, ‘এখনো ১০ ডিসেম্বর অনেক দূর। আপনারা ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশে আসবেন। ১০ ডিসেম্বরের কথা ১০ ডিসেম্বরেই বলব। আগাম কোনো কথা কেউ বলবে না, আমিও বলব না। আমরা ১০ ডিসেম্বর অবশ্যই পরবর্তী কর্মসূচি দেব। সেদিন তো বলব না যে, আমাদের আন্দোলন এখানেই শেষ। আর সরকার ১০ ডিসেম্বরের আগে যদি জনগণের দাবি মেনে নেয়, সেটা তো অন্য রকম। কিন্তু তা তো আমরা প্রত্যাশা করতে পারছি না। আমরা গণসমাবেশ থেকে কী বলব, ১০ ডিসেম্বর শোনার অপেক্ষায় থাকুন।’

গয়েশ্বর চন্দ্র আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতেন, ভোটাধিকার ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করতেন। আমরা দেখছি, দেশে এসব কিছুই নেই। বিচারের নামে আমরা অবিচারের মুখোমুখি হচ্ছি। এ অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই। চলমান আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে সাধারণ জনগণ সম্পৃক্ত হয়েছে। তাদের অংশগ্রহণে ভোটাধিকার, অর্থাৎ জনগণই যে দেশের মালিক—এটি প্রতিষ্ঠাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা জেলা বিএনপির নতুন কমিটির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু, নতুন কমিটির সহসভাপতি খন্দকার মাঈনুল ইসলাম বিল্টু, যুগ্ম মহাসচিব শামছুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com