সরকারের পতন বেশি দূরে নয় : নোমান

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান।ছবি : কালবেলা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবে। সেখানে সরকারের পরিবর্তন ঘটবে, তা আমরা বলতে পারি না। কিন্তু দেশের মানুষ সরকারের পরিবর্তন ঘটাবে। বিএনপির প্রতি তাদের প্রত্যাশা বেশি। ইনশাআল্লাহ সরকারের পতন হবে। তাদের পতন বেশি দূরে নয়।’

আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন নোমান। ‘প্রাণী খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি : বিপর্যস্ত পোলট্রি ও ডেইরি খামার’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা।

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আজ ক্ষমতাসীন সরকারের ব্যর্থতার কারণেই মানুষ জেগে উঠেছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। দেশে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সে কারণেই মানুষ জেগে উঠেছে। আমরা এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব না। তারা দিনের ভোট রাতে করেছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। ইনশাআল্লাহ আমরা আন্দোলনে জয়ী হবে।’

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে পণ্যের দাম বেশি। আমাদের আমলে ডিমের হালি ছিল ১১ টাকা। অথচ এখন একটি ডিম ১১ টাকার বেশি। মুরগিতে লাভ হচ্ছে না। কারণ, গবেষণা নেই, বাজেট স্বল্পতা। অনেক সময় বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের নামও বলা হয় না। বলে যে কৃষি উপকরণ।’

নোমান বলেন, ‘আমরা ইলিশ সংরক্ষণ তথা মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ দিয়েছিলাম। আমাদের আরও বেশি গবেষণা করতে হবে। উৎপাদন ও সরবরাহ সমন্বয় করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যাবে, আসবে। কিন্তু দেশের উন্নয়নের জন্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। রপ্তানিমুখী উৎপাদন বাড়াতে হবে। তা না হলে সংকটের সমাধান হবে না। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে সংস্কার ও আধুনিক করা হয়েছে। তিনি ধান-চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ প্রকল্প করেছেন। সে কারণে উত্তরবঙ্গের ৯০ শতাংশ এলাকায় ফসল উৎপাদন বেড়েছে। তিনি ট্যাক্স মওকুফ করেছিলেন, কৃষির সেচের জন্য খাল খনন করেছিলেন। ফলে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল।’

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সময় খাদ্য উদ্বৃত্ত ছিল। সেগুলো জনসংখ্যার অনুপাতে বেশি ছিল। আওয়ামী লীগ যা বলে, তা সঠিক নয়। তাদের আমলে ১২০ লাখ টন খাদ্য রপ্তানি করা হয়েছিল। আমরা খালেদা জিয়ার শাসনামলে এসে তো আবার খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখেছিলাম। ফিশারিজ ও পোলট্রি শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল।’

বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে, আজকের খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশে। কারণ তিনি বাইরে থাকলে আমাদের আন্দোলন আরও জোরদার হতো। কিন্তু আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করছি। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। আজ মানুষ জেগেছে। তাদের ঘুমাতে দেওয়া যায় না। তাদের আরো উজ্জীবিত করতে হবে। আমরা বিজয়ের মুখোমুখি। ইনশাআল্লাহ আমাদের জয় হবে।’

নোমান বলেন, ‘লাইভস্টক সেক্টরের দিকে সরকারই ভালোভাবে নজর দেয় না। কিন্তু বিএনপির আমলে এ খাতে অনেক কাজ করা হয়েছে। সিলেট ও চট্টগ্রামে ভেটেরিনারি কলেজ করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। কৃষিবিদদের আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’

এ সময় ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি পোল্ট্রি ও ফিশারিজ শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রেখেছিলেন। খাল কেটে কৃষিতে সেচের ব্যবস্থা করেছিলেন। তার আমলে বাংলাদেশ চাল রপ্তানি করেছিল, যা বর্তমানে অব্যাহত রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অথচ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত মেগা প্রজেক্টের কারণে দেশের অর্থনীতি আজ ঝুঁকিপূর্ণ। অসংখ্য টাকা দেশ থেকে পাচার হওয়ার কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত আরও ঝুঁকিতে, এলসি খুলতে পারছে না। আজ পেশাজীবীদের আরও বেশি সংগঠিত হয়ে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কোনো লেজুরবৃত্তি না করে নিজেদের মর্যাদা রক্ষায় আসুন যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

ঢাকা মহানগর উত্তর এ্যাব’র সভাপতি কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদারের সভাপতিত্বে সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহসানুল হক। ঢাকা মহানগর উত্তর এ্যাব’র সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সানোয়ার আলমের পরিচালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, এ্যাব’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, সদস্য সচিব ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, কৃষিবিদ বি এম আলমগীর কবির, কৃষিবিদ ইয়ার মাহমুদ, কৃষিবিদ ডা. শাহাদাত হোসেন পারভেজ, কৃষিবিদ ডা. আবদুর রহমান নূরী, ডা. মোজাম্মেল হক সোহেল, আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ ড. আকিকুল ইসলাম আকিক, কৃষিবিদ এ কে এম আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক ড. আসাবুল হক আশা, কৃষিবিদ শেখ মো. শফি শাওন, কৃষিবিদ নূরুন্নবী ভুঁইয়া শ্যামল, কৃষিবিদ ড. শফিকুল ইসলাম শফিক, কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটোন প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com