রাজশাহীর রাজনীতি উত্তপ্ত

বিএনপির লোগো
বিএনপির লোগো

আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। এই সমাবেশ ঘিরে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের রাজনীতির মাঠ। দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ককটেল বিস্ফোরণ, পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, ধরপাকড়, মামলা ও রাজনৈতিক নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে পরিস্থিতি অনেকটাই বেসামাল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গতকাল বুধবার রাজশাহীর পুলিশ লাইন মাঠে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের নামে আগুন-সন্ত্রাস রুখে দিতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

অন্যদিকে রাজশাহীতে বিএনপি কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে আওয়ামী লীগও সমুচিত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতারা বলছেন, ৩ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশে বাধা দিলে রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশ হবে ৩ দিনের। রাজনীতির এমন ত্রিমুখী সমীকরণে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে এলে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলে ‘শঙ্কা’ দেখা দিয়েছে।

বিএনপির লোগো
নেতিবাচক রাজনীতিতে বিএনপির পতন অনিবার্য : কাদের

বিএনপির নেতারা বলছেন, গণসমাবেশ টার্গেট করে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা-গ্রেপ্তার আর হয়রানি করতে ককটেল বিস্ফোরণের নাটক সাজিয়েছে। ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। তাদের প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ পণ্ড করা হচ্ছে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, বিএনপি নেতাকর্মীরা নানা অপতৎপরতায় মাঠে নেমেছে। তারা নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই পাল্টা জবাব দিতে সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ-যুবলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন।

সূত্র জানায়, বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল রাজশাহী। ইউপি থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন; সবখানেই বিএনপি সমর্থিত বা মনোনীত প্রার্থীদের ছিল দাপট। সেই হিসাব পাল্টে গেছে ২০০৮ সালের নির্বাচনে। রাজশাহীতে বড় ধাক্কা খায় দলটি। এরপর সরকারবিরোধী আন্দোলনে একের পর এক মামলা, গ্রেপ্তার ও দলীয় কোন্দলে অনেকটা কোণঠাসা বিএনপি। কর্মসূচিতে থাকে না আগের সেই জৌলুস। ফলে গত ১৪ বছরে স্থানীয় বা জাতীয় নির্বাচন কোনোটিতেই আর তেমন সফলতার মুখ দেখেনি দলটি।

গত ২০ নভেম্বর রাজশাহীর দুর্গাপুর বাজারে ৪টি অবিস্ফোরিত ককটেলসহ বাঁশের লাঠিসোটা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১৬ নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫০-১৬০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এদিকে জেলার পুঠিয়ার সৈয়দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রস্তুতি সভা ডেকেছিল উপজেলা বিএনপি। সেখানে পাল্টা সমাবেশ ডাকে উপজেলা যুবলীগ। এরপর ওই জায়গা দখলে নেয় যুবলীগ। ফলে পণ্ড হয়ে যায় বিএনপির সভা। এ ঘটনার আগে ওইদিন বিকেলে মোল্লাপাড়ায় বিএনপির প্রস্তুতি সভার মঞ্চ ভাঙচুর করে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে কয়েকটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপির ১৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়। এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। এ ছাড়া নাটোরে গত সোমবার দিঘাপাতিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া বাজার এলাকায় পাঁচটি শক্তিশালী বোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও আটটি বোমা। গত সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব আলীকে আটক করেছে।

বিএনপির লোগো
বর্তমান নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন : কাদের সিদ্দিকী

জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, বিএনপির গণসমাবেশ পণ্ড করতে সরকার জঙ্গিসহ নানান নাটক সাজাচ্ছে। সমাবেশে জনসমুদ্রের ঢেউ থামাতে মামলা করছে। গায়েবি মামলায় বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সম্ভব হবে না।

এদিকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, গণসমাবেশকে সামনে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা ধরনের নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা রাজশাহীর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। তবে তাদের সেই অপতৎপরতা রুখে দিতে আমাদের নেতাকর্মীরাও প্রস্তুত আছে।

জেলার সার্বিক বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘গণসমাবেশে স্মরণকালের বৃহৎ জনসমাবেশ হবে। আমরা যখন নানা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি, তখনই নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে পুলিশ। তবে কোনো অপশক্তিই জনস্রোত দমাতে পারবে না। বাধা দিলে রাজশাহীতে ১ দিনের পরিবর্তে বিভাগীয় গণসমাবেশ হবে ৩ দিন।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com