বিএনপি নয়, ক্ষমতাসীনরাই অগ্নিসন্ত্রাসের মূল হোতা : মির্জা ফখরুল

২০-দলীয় জোটের তিন শরিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষে মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলন।
২০-দলীয় জোটের তিন শরিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষে মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলন।ছবি : কালবেলা

বিএনপি নয়, ক্ষমতাসীনরাই অগ্নিসন্ত্রাসের মূল হোতা বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক তিনটি দলের সঙ্গে পৃথক সংলাপ শেষে সরকারের মন্ত্রী-নেতাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযোগ করেন ফখরুল।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চলমান আন্দোলনের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে এবং তার যে গতি প্রতিদিন বাড়ছে এটাতে ভীত হয়ে তারা (ক্ষমতাসীনরা) আগের বিষয়গুলোকে নিয়ে আসছে। কিন্তু সত্য কথাটা হচ্ছে, অগ্নিসন্ত্রাসের মূল হোতা আওয়ামী লীগ নিজেই, সরকার নিজেই। সে সময়ে যত ঘটনা ঘটেছে প্রত্যেকটি ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের লোকেরাই এর (অগ্নিসন্ত্রাস) সঙ্গে জড়িত। বাসের (অগ্নিসংযোগ) ব্যাপারটায় দেখা গেল, বাসের মালিক হচ্ছে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির প্রধান। আর চৌদ্দগ্রামের ঘটনায় খালেদা জিয়াকে আসামি করে মামলা দেওয়া হলেও পরে সবকিছুর মূলে দেখা যায়, ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগের লোকেরাই জড়িত।

বিএনপি কোনো সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন দলটির এই মহাসচিব। বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দল থেকে কোনো রকমের কোনো সন্ত্রাস বা উসকানি দেয়া হয়নি। তারাই উসকানি দিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তারা এই চলমান আন্দোলনকে আবার ভিন্নখাতে প্রবাহিত, নস্যাৎ করার জন্য এই পদ্ধতিটা বেছে নিয়েছে। কিন্তু তাতে কাজ হবে না। জনগণের একটাই দাবি, এই সরকারকে পদত্যাগ করে চলে যেতে হবে।

‘কোনো ছাড় দেয়া হবে না’—সরকারের মন্ত্রীদের এ রকম বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ছাড় কেউ কাউকে দেয় না। দাবি আদায় করে নিতে হয়। ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এরশাদের একই ধরনের কথাবার্তা, বডি ল্যাংগুয়েজ ছিল। ৬ তারিখে কিন্তু ধপাস।’

বিকেল ৪টায় মাইনরিটি জনতা পার্টি, বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলাদেশ ন্যাপ ও বিকেল ৫টায় সাম্যবাদী দলের সঙ্গে সংলাপে বসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে মাইনোরিটি জনতা পার্টির চেয়ারম্যান সুকৃতি কুমার মণ্ডল, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান এম এন শাওন সাদেকী এবং বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল ইসলাম নিজ নিজ দলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

মাইনোরিটি জনতা পার্টির প্রতিনিধি দলে ছিলেন দিলীপ কুমার দাস, মোহাম্মদ আবদুল হাই, কমলেশ কুমার দাস, নিরদ বরণ মজুমদার, অশোক কুমার সরকার, ভবতোষ মুখার্জী সুবীর, শন্তু নাথ দাস, পল্লব চ্যাটার্জী, উজ্জ্বল চন্দ্র দাস, শেখর চন্দ্র সরকার, সুমন কুমার সরকার, কেয়া সেন ও মিঠুর ভট্টচার্য।

বাংলাদেশ ন্যাপের প্রতিনিধিরা হলেন—পরেশ চন্দ্র সরকার, আব্দুল বারিক, নুরুজ্জামান, মেহেদি হাসান এবং ওমর ফারুক। সাম্যবাদী দলের অন্য সদস্যরা হলেন—সুরাইফুল ইসলাম মাহফুজ, সাইফ উদ্দিন মাহমুদ, এরশাদ আলী, মেহেবুব মিয়া, আবু তাহের, শামসুল হক, আব্দুল গনি খান, সুমন হাওলাদার ও নুরুদ্দিন ঢালী। বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

সরকার পতন আন্দোলনের কর্মকৌশল চূড়ান্ত করতে গত সেপ্টেম্বর থেকে বিএনপি মহাসচিব ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শুরু করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com