ভিন্ন নামে রাজনীতি করতে চায় জামায়াত

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।ছবি : সংগৃহীত

ভিন্ন নামে রাজনীতি করতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর উত্তরের থানা আমিরদের এক বৈঠকে এ কথা জানানো হয়েছে।

এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড চাপে থাকা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দলটি কোথাও সুবিধা করতে না পারায় এমন চিন্তা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নানা কারণেই এক দশক ধরে প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত এ দলটির প্রথম সারির প্রায় সব নেতা দণ্ডিত হয়েছেন। তাদের কারো কারো ফাঁসিতে ঝুলে জীবনাবশান হয়েছে।

জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, সরকারের দিক থেকে দলটি একটু সুবিধা পেতে চায়। এ কারণে সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দলীয় ফোরামে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ডা. শফিকুর রহমানের ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এতদিন একটা জোটে ছিলাম। ছিলাম বলে আপনারা হয়তো ভাবছেন, কিছু হয়ে গেছে নাকি? আমি বলি, হয়ে গেছে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এটি একটি জোট ছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জোট তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সেদিন বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিল। সেটা আর ফিরে আসেনি।’

এ অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তরের আমিরদের এক বৈঠক হয়। সেখানে উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, ‘ভিন্ন নামে জামায়াতের সংগঠন করা হবে। আমাদের আইনজীবীরা নতুন গঠনতন্ত্র নিয়ে কাজ করছেন। তবে এখনই এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে আপনারা সতর্ক থাকবেন।’

জানতে চাইলে জামায়াতের ঢাকা মহানগরের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ কালবেলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

জামায়াতের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জানান, নির্বাচন কমিশন যদি নতুন নামে তাদের নিবন্ধন না দেয়, সেক্ষেত্রে তারা নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে সেখানে জমায়েত ঘটাতে পারে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং অস্তিত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নাম পরিবর্তনের জন্য দলটির শূরা সদস্যরা প্রস্তাব করেন। তবে, নাম কী হবে বা কবে নাগাদ নতুন নাম আসবে তা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।

জামায়াতের একাংশ মনে করে, নাম পরিবর্তন করা হলে পরিস্থিতি মোকাবিলা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

জামায়াত নেতারা মনে করেন, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকার কারণে সরকার তাদের ওপর রাজনৈতিক নিপীড়ন চালাচ্ছে। প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রকাশ্যে আসতে পারছে না জামায়াত। তাদের প্রভাবাধীন আর্থিক ও সেবামূলক অনেক প্রতিষ্ঠান হাত ছাড়া হয়ে গেছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, জামায়াত নতুন নামে আসতে চাক বা না চাক, তাদের প্রথম কাজ লুকোচুরি না করে একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com