বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা করলে ঘরে বসে থাকব না : আমু

শুক্রবার আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু।
শুক্রবার আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু।ছবি : কালবেলা

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য চাই না। কিন্তু, কেউ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে আমরা ঘরে বসে থাকব না। জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিহত করব। জনগণ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হতে দেব না।

আজ শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে ১৪ দলের এক সমাবেশ ও আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

‘গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অভিযাত্রা ব্যাহত করার হীন মানসে বিএনপিসহ দেশবিরোধী অপশক্তির সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ এ সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

গণতান্ত্রিক পন্থায় ১৪ দল রাজপথে আন্দোলনে ছিল এবং থাকবে উল্লেখ করে আমু বলেন, ‘আমাদের নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বারবার তাদের বাধাহীনভাবে কর্মসূচি পালন করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে যাচ্ছেন। কিন্তু, তারা তো বাধা চায়। তারা পুলিশের গায়ে পেট্রোল মারে, ইট মারে যাতে পুলিশ তাদের ওপর হামলা করে, যাতে তারা বলতে পারে পুলিশ তাদের ওপর হামলা করেছে।’

শুক্রবার আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু।
পরাজিত হবে বলেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি : আমু

১৪ দলের মুখপাত্র আমু বলেন, ‘আজ তাদের আন্দোলন নৈরাজ্য সৃষ্টির মূল লক্ষ্য, জাতীয় নির্বাচন নয়। এ দেশে একটি অস্বস্তি ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আবার কোনোরকম ক্ষমতার অদল বদল করা যায় কি না, তার একটি হিসাব-নিকাশ চলছে। কিন্তু তাদের সে হিসাবে অনেক গরমিল।’

বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে যারা মেনে নিতে পারেনি, আজ তাদের প্রেতাত্মারাই তথাকথিত রাজনৈতিক দল গঠন করে এ দেশে আবার নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অরাজনৈতিক সরকার গঠনের পাঁয়তারা করছে। আজ তারা যদি মনে করে তারা আবার একইভাবে এগোতে পারবে, তাহলে তারা ভুল করছেন, মস্ত বড় ভুল করছেন। তারা ফাইনাল খেলতে চান, কিন্তু ফাইনাল খেলার আগে যে লীগ খেলা, সেটি খেলতে খেলতেই তাদের পা তো ভেঙে যাবে, এটা কি তারা বুঝতে পারে না? ফাইনাল খেলা পর্যন্ত আপনাদের আসতে হবে না কষ্ট করে। আপনারা ফাইনাল খেলার প্লেয়ার না।’

আমু আরও বলেন, ‘বিগত দুই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন, আপনারা নির্বাচনকে ভয় পান, আপনারা জনগণকে ভয় পান। জনগণ আপনাদের ভোট দেবে না, এটা আপনারা জানেন। তাই আপনাদের মুখোশ উন্মোচন করতে চান না। আপনারা জনগণ দ্বারা দীক্ষিত, আপনারা জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত। এটা যে নির্বাচনে গিয়ে প্রমাণ হবে, তা আপনারা চান না বলেই নির্বাচনকে ভয় পান। তাই ছলে বলে কৌশলে সব সময় নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে চান, দূরে সরে আছেন এবং আগামীতেও থাকবেন এটা আমরা জানি, এটা আমরা বুঝি।’

আমির হোসেন আমু বলেন, ‘তারা কেউ বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কেউ বলে নির্বাচনকালীন সরকার, কেউ বলে জাতীয় সরকার। যার যা খুশি এক একটা বলে। একটা সময় হয়তো বলবে, আমাদের সরকার ছাড়া আমরা নির্বাচন করব না। তাদের সরকার যদি হয়, তাহলে তারা নির্বাচন করবে। আর তাদের সরকারের সময় নির্বাচনের ফল আমরা জানি। তাদের আমল থেকেই নির্বাচনে কারচুপি, ভোটের হাইজ্যাক সবকিছু।’

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও কামরুল ইসলাম, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com