বিএনপির ৩৯ মামলার বিচার শুরু হয়েছে : মির্জা ফখরুল

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : কালবেলা

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলার বিচার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নেত্রীর নির্দেশনার বাইরে কেউ যদি এসব হামলায় জড়িয়ে পড়েন, আমরা কিন্তু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। এখানে কেন্দ্রের কোনো নির্দেশ নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আন্দোলনের খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত করল বিএনপি

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রেখেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি আবার বলেছেন, ‘আপনারা ফাঁকা মাঠে তাফালিং করবেন আর আওয়ামী লীগ আঙুল চুষবে—এটা মনে করবেন না। কিছু লোক নামিয়েছেন, কয় দিন তারা থাকে, দেখ’। সুতরাং এ কথাগুলো হচ্ছে মানুষকে প্রতারণা করা, মানুষকে ভুল বুঝানোর চেষ্টা করা, আমরা খুব ভালো আছি, আমরা কিছু করছি না, সবাইকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে সহযোগিতা করছি—এটা সঠিক না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা দেখেছেন তারা গণমাধ্যমের সামনে এক রকম বলে, কাজ করে উল্টো। এ অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে বহু আগ থেকে আছে। তারা বলেন একটা, করেন আরেকটা। বিদেশে আছেন প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘে গেছেন—ওখানে যাতে তার ভাবমূর্তি নষ্ট না হয় তার ব্যবস্থা করা।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নেতাকর্মীর ওপর হামলা : ফখরুল

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ভালো কথা—এটাকে অব্যাহত রাখেন। আমরা মামলা দিলে তা খারিজ হয়ে যায়—পল্লবীর ঘটনায় আমাদের মামলা খারিজ করে দিয়েছে। আর আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে মামলা তা তদন্ত করছে। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে (বিভিন্ন সময়ে দেওয়া মামলা) ৩৯টি মামলার ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, অথচ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হলেও পুলিশ মামলা নেয় না বা জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয় না। দেখেন আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু তার ওপর কীভাবে হামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বিবিসির প্রশ্নের মধ্যে উত্তর আছে

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ইংল্যান্ড যান। তাকে (প্রধানমন্ত্রীকে) বিবিসি যে প্রশ্নগুলো করেছে, তার মধ্যে উত্তরগুলো আছে। বাংলাদেশে রানির যে প্রতিনিধি আছেন, আপনাকে বলেছেন, তারা বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন দেখতে চান। বিগত নির্বাচনগুলোগুলো...। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে সবাই হাসছে। বিশ্বের সবাই জানে ২০১৪ সালের নির্বাচন কীভাবে হয়েছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনই হয়নি। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে সবাই বলছে কুত্তামার্কা নির্বাচন হয়েছে। কোনো ভোটার নেই, ভোটকেন্দ্রে কুকুর ঘুরে বাড়াচ্ছে। ১৫৪ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে আগে রাতে সব নির্বাচন হয়ে গেল, কিন্তু আপনারা (গণমাধ্যম) চাপের কারণে লিখতে পারেননি। এ নির্বাচন দেশে-বিদেশে কোথাও স্বীকৃত পায়নি।

খালেদা জিয়ার রায়ও রাজনৈতিক কারণে

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, গুমের ঘটনাও একই ব্যাপার। হিউম্যান রাইটস-ওয়াকিং গ্রুপ তারা পরিষ্কার করে সব কিছু তুলে ধরেছে। বাংলাদেশে কতগুলো অভিযোগ এসেছে, প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা স্বাধীনভাবে, নিরপেক্ষভাবে তদন্তের কথা বলছে। জাতিংসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউয়নের সবগুলো রিপোর্টে বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়টি উঠে এসেছে। মার্কিন রিপোর্টে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কেও বলা হয়েছে। খালেদা জিয়ার যে রায় সেটাও যে রাজনৈতিক কারণে ছিল তাও উল্লেখ করেছে। মানুষ বোকা নয়। সরকার কী করছে, সবাই জানে। এই সরকার যে জনগণের সমর্থন ছাড়া জোর করে ক্ষমতায় আছে সেটা সবাই জানে।

পুলিশ কর্তৃক নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধী দলীয়নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার নামে হয়রানি করছে এবং দেশে বিরাজমান ভয়ের পরিস্থিতিকে আরো আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ রাজনৈতিক কর্মীদের একজনের কাছ থেকে অন্যজনের তথ্য সংগ্রহেও লিপ্ত রয়েছে। বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটির তালিকা সংগ্রহ করছে। পুলিশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ সংবিধান, ফৌজদারি কার্যবিধি, পুলিশ আইন বা পুলিশ বিধি কিংবা অন্যকোনো আইন দ্বারা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম একদিকে যেমন নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুন্ন করছে অন্যদিকে তেমনি নাগরিকের আইনি অধিকার ভোগ করা এবং তার ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে প্রতীয়মান হয় যা সংবিধানের ৩১,৩২ এবং ৪৩ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আশা করি পুলিশ সংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২ এবং ৪৪ ধারায় একজন নাগরিক যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করবে বলে বলা হয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিত ভিন্ন। ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার এখতিয়ার ধারণ করে বা আমলযোগ্য অপরাধের সম্পৃক্ততার যুক্তিসম্মত কারণ পায় এবং সে ব্যক্তি যদি পালানোর চেষ্টা করে কিংবা তার শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কোনো আশঙ্কা থাকে বা রেলওয়ে, কেনাল, টেলিগ্রাফ অথবা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা ৪৪ ধারায় উল্লিখিত দণ্ডবিধির কোনো অপরাধ সংঘটনের তথ্য থাকে তবেই কেবল ওই পুলিশ কর্মকর্তা একজন নাগরিকের সহযোগিতা চাইতে পারে, অন্যকোনো কারণে নয়।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ৪২ এবং ৪৪ ধারা প্রয়োগ করতে গেলেও আগে প্রমাণ করতে হবে, নাগরিকের কাছ থেকে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা চাইতে হলে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে এবং সে কারণ অবশ্যই উল্লিখিত আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, চলমান অবস্থায় ইহা দৃশ্যত প্রতীয়মান হয়, পুলিশ বিএনপিসহ ভিন্নমতালম্বীদের দমনের উদ্দেশ্যে তাদের গণহারে শুধু নাম ঠিকানায় নয়, তাদের পেশা, সন্তান সম্পত্তির বিবরণসহ চৌদ্দগোষ্ঠীর যাবতীয় বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে যা দেশে বিরাজমান আতঙ্কের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। বিএনপি এই অবস্থার অবসান চায়। আমরা পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, এভাবে সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তারা তাদের সংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com