‘জোর করে আ.লীগ সরকার টিকে থাকতে পারবে না’

শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।ছবি : সংগৃহীত

জোর-জবরদস্তি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

আজ শুক্রবার মহানগর উত্তর বিএনপির মোহাম্মদপুর জোনের উদ্যোগে বছিলায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। 

নজিরবিহীন লোডশেডিং, জ্বালানি তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি ও পুলিশের গুলিতে ভোলায় নুরে আলম ও আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধান ও মুন্সীগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শাওন নিহতের প্রতিবাদে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে এটি বিএনপির ১৩তম কর্মসূচি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আন্দোলন করতে গিয়ে আমার ভাই ভোলার নুরে আলম, আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জের শাওন, গতকাল মারা গেল মুন্সীগঞ্জের আরেক ভাই শাওন, যশোরে আন্দোলনে তাদের আক্রমণে আহত হয়ে আব্দুল আলিম গত কয়েকদিন আগে মারা গেছে। আপনি খাবার দিতে পারবেন না, আপনি চাকরি দিতে পারবেন না। মানুষ তার কষ্টের প্রতিবাদ জানাবে আর আপনি (সরকার) গুলি করে মেরে ফেলবেন। আর বলছেন- আমরা জনগণের সরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা বাংলাদেশের জনগণের সরকার না। আপনারা কয়েক হাজার নতুন কোটিপতির সরকার, আপনারা চার কোটি নতুন দরিদ্র মানুষের সরকার নন। আমরা ওই চার কোটি দরিদ্র মানুষের কথা বলছি এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে লড়ছি।’

আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, আগামী দিনে যে লড়াই সেই লড়াইয়ে অবশ্যই আমরা বিজয়ী হব, ইনশাল্লাহ। বরাবরই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে জনগণ আমাদের পাশে ছিল, এবারও পাশে থাকবে। রাজপথের আন্দোলনের জন্য আপনারা প্রস্তুত নিন। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন ফয়সালা হবে রাজপথে।
নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম এতই বেড়েছে যে, বাংলাদেশে যারা হালাল উপার্জন করেন তাদের আর চলার অবস্থা নাই, তাদের সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাদের ছেলে-মেয়ের মুখে খাবার দিতে পারে না। রোগের চিকিৎসা করাতে পারে না। কারণ ওষুধের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে আন্দোলন-সংগ্রামে যখন মানুষ রাস্তায় নামছে পুলিশ গুলি করছে। আমাদের সহকর্মীদের খুন করা হচ্ছে। তাতে বিএনপির জনসভা বা আন্দোলনে লোক কম হচ্ছে কি? কমে নাই। এটাই আন্দোলনের ইতিহাস। জোর-জবরদস্তি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। আপনারাও পারবেন না।’

তিনি বলেন, ‘মিছে-মিছি জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে ঘৃণিত হবেন না। একবার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে একুশ বছর আসতে পারেন নাই ক্ষমতায়। আজকে যে অত্যাচার-নিপীড়ন-নির্যাতন করছেন এগুলো যদি বন্ধ না করেন তাহলে এবার ক্ষমতাচ্যুত হলে আবার কত বছর লাগবে আল্লাহ জানে। আমরা গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বলতে চাই, আমরা সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। জনগণ ঠিক করবে কে ভালো, কে মন্দ, কাকে দায়িত্ব দেওয়া যায়, কাকে দেওয়া যায় না। আপনারা এই সুযোগটা গ্রহণ করুন। ভুল করবেন না।’

নজরুল ইসলাম বলেন, `আপনারা ভয় পেয়ে আমাদের গুলি করছেন, মানুষকে গুলি করছেন। কিন্তু লাভ আছে? ১৯৬৯ এ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুজ্জোহা আর ক্যান্টনমেন্টে সার্জেন্ট জহুরুল হককে মেরে ফেলা হয়েছিল। আইয়ুব খান টিকতে পারছে- পারে নাই। এরশাদও টিকতে পারছে- পারে নাই। আপনারাও পারবেন না, এটাই ইতিহাস।'

মহানগর উত্তর ৮ জোনের উদ্যোগে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ সারা দেশে ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা ও হামলার’ প্রতিবাদে এ সমাবেশ হয়। সমাবেশে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে অংশ নেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘সরকারকে বলি, আপনারা হামলা করে আমাদের হাড্ডি ভাঙতে পারেন, আমাদের মনোবল ভাঙতে পারবেন না। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। গণতন্ত্র মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবেই।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান। সদস্য সচিব আমিনুল হক ও সদস্য আবদুর রাজ্জাকের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, সরাফত আলী সপু, তাবিথ আউয়াল, নাজিম উদ্দিন আলম, সাইফুল আলম নিরব, আনোয়ার হোসাইন, মহানগর নেতা আক্তার হোসেন, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আতিকুল ইসলাম মতিন প্রমুখ।

এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিলকিস জাহান শিরিন, সেলিম রেজা হাবিব, শামীমুর রহমান শামীম, নিলোফার চৌধুরী মনি, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, এসএম জাহাঙ্গীর, মহিলা দলের ফরিদা ইয়াসমিন, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com