জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে : গয়েশ্বর

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।ছবি : কালবেলা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বিএনপি। যুগপৎ কিংবা যে পন্থায় হোক, ঐক্য গড়ে তোলা হবে। জনগণকে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি আদায়ের বিষয়ে শিগগিরই সুরাহা হবে। জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এ কথা বলে। স্বাধীনতা ফোরাম নামের একটি সংগঠন এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রথমে সরকার পতনের মাধ্যমে নির্বাচন আদায় করা হবে, এরপর আগামীর রাষ্ট্র মেরামতে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবাই মিলে সরকারকে হটিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করা হবে। রাষ্ট্রের অনেক সংস্কার করা প্রয়োজন, সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘একটি দেশ ও জাতি যখন বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন দেশের সব মানুষ ঐক্যবদ্ধ একটি প্রচেষ্টা চালায়। অতীতে যতবার জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, সে জাতীয় ঐক্য কখনো বৃথা যায়নি। জাতীয় ঐক্যের প্রাপ্ত ফসল কার গোলায় গেছে, সেটা হচ্ছে বড় কথা। তাই এবার জাতীয় ঐক্যের ফসল যাতে জনগণের গোলায় যায়, সে চিন্তাভাবনা বিএনপি করছে।’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
দুর্নীতিবাজ পুলিশ দিয়ে সরকার টিকতে পারবে না : গয়েশ্বর

গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে আপনারা জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে শুনেছেন। আমিও আমার দলের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করতে চাই—একসঙ্গে পথচলা, পাশাপাশি পথচলা অথবা আলাদা আলাদা মঞ্চে আলাদা আলাদা রাস্তায় আমরা একযোগে কাজ করতে চাই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা জনগণের ইচ্ছায় হতে পারে যুগপৎ। সেটা হতে পারে কখনো কখনো আলাদা আন্দোলন, কখনো কখনো একসঙ্গে এক মঞ্চে আন্দোলন। আমরা যদি দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদী সরকারকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরাতে চাই, তাহলে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতেই আমরা যে ধরনের আলোচনা করছি, সেটা খুব শিগগিরই অগ্রসর হবে।’

তিনি বলেন, ‘অতীতের যে তিক্ততা, যে প্রতারণা সেজন্য জাতীয় রূপরেখায় জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। আমরা এর মাধ্যমে পরে রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তন করতে চাই। তাহলে আমরা চূড়ান্ত রায়ের আগেই পারব। কিন্তু সাজানো-গোছানো নিয়ে যদি দ্বিমত দেখা দেয়, তাহলে সম্ভব নয়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আপনারা যারা প্রশাসনে আছেন, এ সরকারের লুটপাটের অংশীদার অথবা কিছু না কিছু পেয়েছেন, তাদের বলব, চাকরি যাবে না। এখন থেকে আপনারা সরকারের অবৈধ কাজে যাবেন না। আপনার চাকরির স্বাভাবিক যে দায়িত্ব, সে স্বাভাবিক কাজটা করেন। সরকার রক্ষা করার দায়িত্বে প্রশাসনের পোশাকধারী-অপোশাকধারী যেই হোন না কেন, এখনো সময় আছে জনগণের পক্ষে আসেন। আপনাদের চাকরি আপনারাই করবেন, আমরা চাকরি করতে যাব না। কিন্তু, যে সরকারকে জনগণ চায় না, সে সরকারকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে যেই হোক, তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।’

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বাংলাদেশে কোন সরকার আসবে, তা ঠিক করবে জনগণ : গয়েশ্বর

গয়েশ্বর বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় থাকতে সব রকম চেষ্টা করছে, দেশে-বিদেশে ছুটছে। ক্ষমতার চেয়ে সম্পদ বেশি দরকার বলেই রাজনীতি থেকে রাজনীতিবিদরা বিতাড়িত হচ্ছেন। রাজনীতি করপোরেট হাউসের মালিকদের হাতে চলে গেছে, তারাই আন্দোলন-সংগ্রামে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতিতে করপোরেট পরিবর্তনের কারণে লুটপাট হচ্ছে।’

সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের প্রথম চোর। স্বাধীনতার পর তারাই প্রথম ব্যালট বাক্স চুরি করেছে। ভোট ছাড়া ক্ষমতায় থাকায় আমরা এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। শেখ হাসিনাও এখন ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আছেন। এরশাদ স্বৈরাচার ছিলেন, তার চেয়ে বেশি স্বৈরাচার এ সরকার। এরশাদ, আইয়ুব খানও এভাবে উন্নয়নের গল্প শুনিয়েছেন। সবাই একসঙ্গে রাস্তায় নামলে সরকারের পতন হবে। যুগপৎ আন্দোলনে সরকারের পতন ঘটাতে আমাদের পারতেই হবে।’

বিএনপির প্রয়াত নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন সম্পর্কে মান্না বলেন, ‘তিনি ছিলেন ছাত্র রাজনীতির আইকন। নিউক্লিয়াসের আগে শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষে লিফলেট বিতরণ করা হয়। তার অসাধারণ সাহসিকতা ছিল, ছিল সত্য বলার প্রবণতা।’

স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বাবুলের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com