ইভিএম ইস্যুতে সিইসির বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল
সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালছবি: সংগ্রহীত

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ প্রেরণ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার তার পক্ষ থেকে এই লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনিজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া।

প্রেরিত এই আইনি নোটিশে সিইসির পাশাপাশি বিবাদী করা হয় কেবিনেট সচিব, অর্থমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের সিনিয়র সচিবকে।

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল
নতুন ইভিএম প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে ইসি

আইনজীবী একলাছ উদ্দিনের প্রেরিত আইনি নোটিশে নির্বাচন কমিশনের কর্তৃক ভিভিপিএটি (ভোটার ভেরিফাইয়েবল পেপার অডিট ট্রায়াল) বা মুদ্রণযোগ্য ব্যালট পেপার ছাড়া ইভিএম ক্রয়ের মতো জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।  

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশন যে ইভিএমগুলো পূর্বে ক্রয় করেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে ইভিএম স্পেসিফিকেশনে নাগরিকদের দেয়া ভোটের বাস্তবিক কোনো উপাত্ত বা মুদ্রিত ব্যালট সংগৃহীত থাকে না। দেশে ব্যবহৃত ইভিএমে যা থাকে তা শুধু কিছু ডিজিটাল সংখ্যা। 

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল
আগামী সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ৮০ আসনে ইভিএমে ভোট : ইসি

এর ফলে নির্বাচনবিধি অনুসারে, নির্বাচনে ফলাফল পুনঃগননার বা ফল চ্যালেঞ্জ করার জন্য যে উপাত্ত ও আলামত দরকার তা বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ ইভিএমে ভোট প্রদান করলে ব্যালট ভোটের মতো বাস্তবিক কোনো অস্তিত্ব থাকে না। যা নির্বাচনে ফলাফল চ্যালেঞ্জ ও ভোট পুনঃগননা বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারজনিত কারসাজি বিশ্বব্যাপী ইভিএমের গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। যার ফলে ইভিএম থেকে রাষ্ট্রগুলো সরে এসে সরাসরি ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটে ফিরছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘসময় ধরে ইভিএম বিষয়ে জনমনে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এটা আরও সুদৃঢ় হয়েছে, আমাদের দেশে ব্যবহৃত ইভিএমে ভিভিপিএটি প্রযুক্তি না থাকাতে।

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল
রাজনৈতিক সমঝোতা হলে সব ভোট ব্যালটে : সিইসি

আইনি নোটিশে বলা হয়, বিদ্যমান নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিকার অর্থে নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কার্যকরী কিছু করতে চায়, তাহলে তারা অবশ্যই যেন ইভিএমে ভিভিপিএটির অনুরূপ, ভোটের মুদ্রিত ব্যালট সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। অন্যথায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে কারচুপি সংগঠিত করতে কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হবে।

এ সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিভিপিএটি ছাড়া ইভিএম ক্রয়ের মতো জনস্বার্থবিরোধী কাজ হতে সরে আসার ঘোষণা না দিলে জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com