আওয়ামী দুঃশাসন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে : রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।পুরোনো ছবি

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন বধ্যভূমি। আওয়ামী দুঃশাসন এখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করা যেন ওদের খেলায় পরিণত হয়েছে। এ খেলার কথা তারা কয়েকদিন আগেই ঘোষণা দিয়েছিল। এ খেলার পরিণতি এখন দেশব্যাপী দেখা যাচ্ছে।’

মুন্সীগঞ্জে আজ বুধবার ‘বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে হামলা, টিয়ারশেল ও গুলিবর্ষণ’-এর প্রতিবাদ জানিয়ে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নেতাকর্মীদের হত্যা ও জখমের প্রতিবাদে কেন্দ্রের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে আজ বিকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের মুক্তারপুরে সদর উপজেলা বিএনপির সমাবেশ হয়। সেখানে জনগণ ও নেতাকর্মীরা জমায়েত হলে বিনা উসকানিতে পুলিশ হামলা চালিয়ে ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে শতাধিক নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করেছে। আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতা শাওন, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর, ছাত্রদল নেতা তারিক, বিএনপি কর্মী শিপন, তপন, রুবেল, সোহেল, হাফিজুল, হাসান গুলিবিদ্ধ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে অনেককেই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
জুলুম-নির্যাতন করে আ.লীগের শেষ রক্ষা হবে না : রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, ‘পুলিশের এ নির্মম হামলায় সাংবাদিকরাও রেহাই পাননি। এ কর্মসূচি ছিল অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে জনগণ ভয়াবহ দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে নিপতিত হয়েছে। সুতরাং, জনগণের দাবির প্রতি সংহতি জানাতেই বিএনপির কর্মসূচির ওপর সরকারের পেটোয়া বাহিনী ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজই (বুধবার) তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির সব সমাবেশ প্রতিহত করা হবে। এর আগে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিএনপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শাসকদলের ক্যাডারদের লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, ঘোষণা দিয়েই বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে সরকার। সরকারের আচরণ দস্যু দলের মতো।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘কুৎসিত মাফিয়া শাসনের কারণে যে দুঃশাসন বিরাজ করছে, আজ মুন্সীগঞ্জের ঘটনা তার জঘন্য বহিঃপ্রকাশ। এরা বিএনপির নারী-পুরুষ কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না। বিপন্ন নারীর আকুতি ও আর্তনাদে তারা উল্লাস প্রকাশ করছে। দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ বেগম সেলিমা রহমান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলুর সহধর্মিণী শামীমা বরকত লাকীসহ মহিলা দলের নেত্রীদের যেভাবে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, তা ইতিহাসে জঘন্যতম ঘটনা হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। একুশ শতকে মানব সভ্যতার অগ্রগতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা আদিম অন্ধকারের যুগকেই ফিরিয়ে এনেছে। পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা করিয়ে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের হত্যা, খুন, জখম ও পঙ্গু করার পর প্রধানমন্ত্রীসহ ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদ সাহেবরা যে ভাষায় কথা বলছেন, তাতে মনে হয়- এসব সহিংস ঘটনায় তারা আনন্দে মেতে ওঠেন।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
পুলিশের সমন্বয়ে সরকার নতুন কৌশল নিয়েছে : রিজভী

রিজভী আরও বলেন, ‘দুর্বিনীত আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর একমাত্র আরাধ্য যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় থাকা। এ জন্য জনগণের সব অধিকারকে বস্তাবন্দি করে বর্তমান ভোটারবিহীন রক্তচোষা সরকার পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদল নিধনে নেমেছে। যেন ক্ষমতার প্রশ্রয়ে একদল নরপিশাচ সংঘবদ্ধভাবে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে। তবে, দেশের মানুষ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। গুলি করে, হত্যা করে, হামলা করে প্রতিবাদী কণ্ঠরোধ করা যাবে না, সরকারের পতন ঠেকানো যাবে না। মুন্সীগঞ্জে পুলিশি হামলা, গুলিবর্ষণ ও নেতাকর্মীদের গুরুতর আহত করার পৈশাচিক ঘটনায় আমি তীব্র ধিক্কার, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গুরুতর ও আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, বেনজীর আহমেদ টিটো, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সেক্রেটারি কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির শাহজাহান খান, প্রকৌশলী মাহবুব আলমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।

মুন্সীগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল।
মুন্সীগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল।ছবি : কালবেলা

এদিকে মুন্সীগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। আজ বুধবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ের সামনে থেকে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এতে আরও অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব খন্দকার এনামুল হক এনাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ যুবদল-ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com